০২:২৬ পি.এম
ইসরাইল ও গাজার মধ্যে সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা ৭০ হাজারেরও বেশি হয়েছে। এই সংকটের প্রতিবাদ জানাতে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে হাজার হাজার মানুষ ফিলিস্তিনের ওপর সহানুভূতি প্রদর্শন করেছেন।
জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ নভেম্বর) এই বিক্ষোভগুলো অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা ইসরাইলের আগ্রাসন ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন।
ফ্রান্সের প্যারিসে প্রায় ৫০ হাজার প্রতিবাদকারী রাস্তায় নেমে আসেন এবং ইসরাইলের গণহত্যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন, তাদের হাতে ছিল ফিলিস্তিনের পতাকা।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করার ট্রাম্পের অনুরোধ গ্রহণ করেননি হার্জোগ
এক প্রতিবাদকারী কাতারের সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেছেন, ‘এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এখনও ন্যায়বিচার থেকে অনেক দূরে রয়েছি।’
এএফপির সাথে এক সাক্ষাৎকারে ফ্রান্স প্যালেস্টাইন সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশন (এএফপিএস) এর প্রধান আন তুয়াইয়ো মন্তব্য করেন, অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও ৭ সপ্তাহ পার করে কিছুই সমাধান হয়নি।
তার মন্তব্য অনুযায়ী, ‘যুদ্ধবিরতি একটি ধোঁয়াশা, যা ইসরাইল প্রায়ই ভঙ্গ করে। আমরা স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে ইসরাইলের এই গণহত্যা বন্ধ করতে চাই।’
লন্ডন, জেনেভা, রোম এবং লিসবনেও এই ধরনের বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। আল জাজিরার সাংবাদিক সোনিয়া গালেগোর রিপোর্ট অনুযায়ী, আয়োজকরা মূলত ইসরাইলের ওপর একটি ‘টেকসই চাপ’ সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে এই বিক্ষোভের আয়োজন করেছেন।
আরও পড়ুন: মিয়ানমারে সেনা হামলায় প্রাণ হারাল ১৮ জন
লন্ডনের আয়োজকদের দাবি, প্রায় এক লাখ মানুষ ইসরাইলের মানবতাবিরোধী অপরাধের জবাবদিহির দাবিতে এই প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করেছেন।
ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত একটি প্রধান বিক্ষোভে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রানচেস্কা আলবানিজ এবং জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ উপস্থিত ছিলেন। ‘ওয়ান্টেড ইন রোম’ এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সেখানে প্রায় এক লাখ মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশিত ছিল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে আলবানিজ ইসরাইলের গণহত্যার অভিযোগ তুলে বলেছেন, ‘ইসরাইল কেবল গাজায় নয়, বরং পশ্চিম তীরে গণহত্যা চালাচ্ছে।’
তিনি আরও দাবি করেন, ইসরাইলকে থামানো উচিত এবং আমরা তা করবোই।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ চীন সাগরে আবারও উত্তেজনা, বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরাইল ফিলিস্তিনে ৫০০’রও বেশি হামলা চালিয়েছে, যার ফলে ৩৪৭ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ৮৯০ জন আহত হয়েছেন।
গাজার খান ইউনিস অঞ্চলের বনি সুহেইলা শহরে সাম্প্রতিক একটি ড্রোন হামলায় ৮ ও ১০ বছরের দুই শিশু মারা গেছে। নিহত শিশু ফাদি ও জুমার চাচা আলা আবু আসি বলেন, ‘তারা নিরীহ শিশু ছিল, তাদের কাছে কোনো অস্ত্রও ছিল না। তারা নিজেদের আহত বাবার জন্য জ্বালানি কাঠ আনতে গিয়েছিল। হামলার পর আমরা তাদেরকে টুকরো টুকরো অবস্থায় পাই।’
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মন্তব্য করেন, ‘এতো মানুষের মৃত্যু, এক পুরো জনগোষ্ঠীকে বারবার উৎখাত করা এবং মানবিক সহায়তায় বাধা দেওয়া কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
গাজা থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক হিন্দ খোদারি জানাচ্ছেন, ‘আন্তর্জাতিক সংহতির প্রতি গাজার মানুষ কৃতজ্ঞ। কিন্তু অধিকাংশ ফিলিস্তিনি প্রতিদিন জীবনের জন্য সংগ্রাম করছেন।’
আরও পড়ুন: শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে: জেলেনস্কি
তার মতে, এখানে মৌলিক চাহিদা যেমন আশ্রয়, ঔষধ ও শিক্ষা সহজলভ্য নয়। এমনকি যুদ্ধবিরতির মধ্যে মানুষজনের মৃত্যু অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরাইল গাজায় নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে এবং গণহত্যা অব্যাহত রেখেছে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন