১১:৪১ পি.এম
ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গিতে ভূমিকম্প এবং অন্যান্য দুর্যোগের মোকাবেলা করার জন্য যা করা উচিত তা হলো আল্লাহর কাছে তওবা করার মাধ্যমে ক্ষমা চাওয়া ও আশ্রয় প্রার্থনা করা, বেশি বেশি ইস্তিগফার এবং জিকির করা পাশাপাশি সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা স্থাপনের জন্য একত্রে প্রয়াস চালানো। দুর্যোগের অবস্থায় ধৈর্য ধরে থাকা এবং আল্লাহকে স্মরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আল্লাহ নিজেই বলেছেন যে মানুষের কাজের ফলই দুর্যোগ।
ভূমিকম্প বা অন্য যেকোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মানুষদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে। এই অবস্থায় আতঙ্কিত হওয়ার পরিবর্তে, একজন মুসলমানের কর্তব্য হলো আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে, আশ্রয় নিতে এবং ধৈর্য ধারণ করা। কোরআন এবং হাদিসে এসব দুর্যোগকে আল্লাহর মহাশক্তির একটি লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুরা আন’আমে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের ওপর কিংবা তোমাদের পায়ের নিচে শাস্তি পাঠাতে সক্ষম।’ এই আয়াত থেকে স্পষ্ট যে, আকাশের দুর্যোগ (যেমন ঝড় ও শিলাবৃষ্টি) বা জমিনের দুর্যোগ (যেমন ভূমিকম্প) সব আল্লাহর ইচ্ছার সাথে যুক্ত। অন্য একস্থানে বলা হয়েছে, ‘আমি ভয় প্রদর্শনের জন্যেই নিদর্শন পাঠাই।’ অর্থাৎ এই দুর্যোগগুলো মানুষের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানায়।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ চীন সাগরে আবারও উত্তেজনা, বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
ভূমিকম্পের সময় উচ্চারণ করার জন্য কিছু দোয়া ও জিকিরের তালিকা: ১. হযরত ইউনুস (আ.) -এর দোয়া, যা মহান বিপদ থেকে মুক্তির জন্য অত্যন্ত কার্যকরী: ‘لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ’ অর্থ: “তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; তুমি পবিত্র, আমি তো নিপীড়িতদের একজন।” (সুরা আম্বিয়া: ৮৭)
২. সার্বক্ষণিক সুরক্ষার দোয়া যা ভোর ও সন্ধ্যায় তিনবার পাঠ করলে আল্লাহ ক্ষতি থেকে রক্ষা করবেন। এর আরবি: ‘بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ…’ অর্থ: আল্লাহর নামে, যার বরকতে আকাশ ও মাটির কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। (হাদিস: আবু দাউদ, তিরমিজি)
৩. দুর্ঘটনার আশ্রয় চাওয়ার দোয়া, যা রাসুল (সাঃ) পড়তেন। এর আরবি: ‘اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ…’
এছাড়া বাধাপ্রাপ্ত সময় ইব্রাহিম (আ.)-এর জন্য আগুনকে শীতল ও শান্ত করতে সহায়তা করা আয়াত রয়েছে।
আরও পড়ুন: জাকিরের সেঞ্চুরিতে বরিশালের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিচ্ছে সিলেট
দোয়ার পাশাপাশি, ভূমিকম্প চলাকালীন কিছু জিকিরের মধ্যে রয়েছে: ইস্তিগফার যেমন “আস্তাগফিরুল্লাহ”, তাওহীদের জিকির “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এবং আল্লাহর প্রতি ভরসা “হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকিল।” এগুলো হৃদয়ের শান্তি এনে দেয় এবং বিপদে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনায় সাহায্য হয়।
ভূমিকম্পের পর করণীয়গুলো: ১. নফল সালাত আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও রহমত কামনা করে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করা। ২. সাদকা প্রদান, কারণ হাদিস অনুযায়ী দান-সাদকা আল্লাহর ক্রোধকে প্রশমিত করে। ৩. ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” বলা।
ইসলামিক চিন্তাবিদদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আত্মসমালোচনার একটি সময়। পাপ থেকে দূরে থাকা, আল্লাহর দিকে ফিরতে সচেষ্ট হওয়া এবং ইবাদতে মনোনিবেশ করা এই ধরনের বিপর্যয়ে আসল নিরাপত্তা। রাসুল (সাঃ) এ সময়ের জন্য উপদেশ দিয়েছেন, আতঙ্কিত হওয়া নয় বরং আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং তাঁর কাছে আশ্রয় চাওয়াই প্রকৃত সমাধান।
আরও পড়ুন: এএফএমসি থেকে পাস করা ইন্টার্নদের সিএমএইচ ঢাকায় চিকিৎসা সেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন