ঢাকা রবিবার, ০৭ই ডিসেম্বর, ২০২৫খ্রিষ্টাব্দ ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩১বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৭হিজরী
রবিবার, ০৭ই ডিসেম্বর, ২০২৫ইং ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩১বাং

ইসলামিক দৃষ্টিতে ভূমিকম্প ও দুর্যোগ মোকাবেলার করণীয়


ইসলামিক দৃষ্টিতে ভূমিকম্প ও দুর্যোগ মোকাবেলার করণীয়

ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গিতে ভূমিকম্প এবং অন্যান্য দুর্যোগের মোকাবেলা করার জন্য যা করা উচিত তা হলো আল্লাহর কাছে তওবা করার মাধ্যমে ক্ষমা চাওয়া ও আশ্রয় প্রার্থনা করা, বেশি বেশি ইস্তিগফার এবং জিকির করা পাশাপাশি সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা স্থাপনের জন্য একত্রে প্রয়াস চালানো। দুর্যোগের অবস্থায় ধৈর্য ধরে থাকা এবং আল্লাহকে স্মরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আল্লাহ নিজেই বলেছেন যে মানুষের কাজের ফলই দুর্যোগ।

ভূমিকম্প বা অন্য যেকোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মানুষদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে। এই অবস্থায় আতঙ্কিত হওয়ার পরিবর্তে, একজন মুসলমানের কর্তব্য হলো আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে, আশ্রয় নিতে এবং ধৈর্য ধারণ করা। কোরআন এবং হাদিসে এসব দুর্যোগকে আল্লাহর মহাশক্তির একটি লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুরা আন’আমে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের ওপর কিংবা তোমাদের পায়ের নিচে শাস্তি পাঠাতে সক্ষম।’ এই আয়াত থেকে স্পষ্ট যে, আকাশের দুর্যোগ (যেমন ঝড় ও শিলাবৃষ্টি) বা জমিনের দুর্যোগ (যেমন ভূমিকম্প) সব আল্লাহর ইচ্ছার সাথে যুক্ত। অন্য একস্থানে বলা হয়েছে, ‘আমি ভয় প্রদর্শনের জন্যেই নিদর্শন পাঠাই।’ অর্থাৎ এই দুর্যোগগুলো মানুষের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানায়।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ চীন সাগরে আবারও উত্তেজনা, বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

ভূমিকম্পের সময় উচ্চারণ করার জন্য কিছু দোয়া ও জিকিরের তালিকা: ১. হযরত ইউনুস (আ.) -এর দোয়া, যা মহান বিপদ থেকে মুক্তির জন্য অত্যন্ত কার্যকরী: ‘لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ’ অর্থ: “তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; তুমি পবিত্র, আমি তো নিপীড়িতদের একজন।” (সুরা আম্বিয়া: ৮৭)

২. সার্বক্ষণিক সুরক্ষার দোয়া যা ভোর ও সন্ধ্যায় তিনবার পাঠ করলে আল্লাহ ক্ষতি থেকে রক্ষা করবেন। এর আরবি: ‘بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ…’ অর্থ: আল্লাহর নামে, যার বরকতে আকাশ ও মাটির কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। (হাদিস: আবু দাউদ, তিরমিজি)

৩. দুর্ঘটনার আশ্রয় চাওয়ার দোয়া, যা রাসুল (সাঃ) পড়তেন। এর আরবি: ‘اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ…’

এছাড়া বাধাপ্রাপ্ত সময় ইব্রাহিম (আ.)-এর জন্য আগুনকে শীতল ও শান্ত করতে সহায়তা করা আয়াত রয়েছে।

আরও পড়ুন: জাকিরের সেঞ্চুরিতে বরিশালের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিচ্ছে সিলেট

দোয়ার পাশাপাশি, ভূমিকম্প চলাকালীন কিছু জিকিরের মধ্যে রয়েছে: ইস্তিগফার যেমন “আস্তাগফিরুল্লাহ”, তাওহীদের জিকির “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এবং আল্লাহর প্রতি ভরসা “হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকিল।” এগুলো হৃদয়ের শান্তি এনে দেয় এবং বিপদে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনায় সাহায্য হয়।

ভূমিকম্পের পর করণীয়গুলো: ১. নফল সালাত আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও রহমত কামনা করে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করা। ২. সাদকা প্রদান, কারণ হাদিস অনুযায়ী দান-সাদকা আল্লাহর ক্রোধকে প্রশমিত করে। ৩. ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” বলা।

ইসলামিক চিন্তাবিদদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আত্মসমালোচনার একটি সময়। পাপ থেকে দূরে থাকা, আল্লাহর দিকে ফিরতে সচেষ্ট হওয়া এবং ইবাদতে মনোনিবেশ করা এই ধরনের বিপর্যয়ে আসল নিরাপত্তা। রাসুল (সাঃ) এ সময়ের জন্য উপদেশ দিয়েছেন, আতঙ্কিত হওয়া নয় বরং আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং তাঁর কাছে আশ্রয় চাওয়াই প্রকৃত সমাধান।

আরও পড়ুন: এএফএমসি থেকে পাস করা ইন্টার্নদের সিএমএইচ ঢাকায় চিকিৎসা সেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চুয়াডাঙ্গায় ১১৫ জন জামায়াতে যোগ দিলেন, বিএনপিরও ৩০ জন রয়েছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০২৫ ইং

০৬:৩৬ এম


চুয়াডাঙ্গায় ১১৫ জন জামায়াতে যোগ দিলেন, বিএনপিরও ৩০ জন রয়েছেন

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের দামুড়হুদা উপজেলার নাস্তিপুরে বিএনপির ৩০ জনসহ মোট ১১৫ জন ব্যক্তির জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান ঘটেছে। জামায়াত ইসলামীতে নতুন সদস্যদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করা হয়।

শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জেলার দর্শনা থানার মদনা-পারকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নাস্তিপুর গ্রামে স্থানীয় জামায়াতের উদ্যোগে এক নির্বাচনী পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি ও অন্যান্য দলের সমর্থকেরা এই সভায় যোগদান করে জামায়াতে ইসলামীতে নিজেদের যুক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী রুহুল আমিন।

তিনি তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, "আমরা নির্বাচনী এলাকায় কাজ করছি। ভোটারদের কাছে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছি। আমরা নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের সাথে নিয়ে সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করব। দেশে কোনো বৈষম্য থাকবে না। যারা আমাদের সাথে আজ একাত্মতা প্রকাশ করলেন তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আজ থেকে আমরা সবাই ভাই ভাই।"

জামায়াতের মদনা-পারকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের আমির হাফেজ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারী আব্দুল কাদের, দর্শনা সাংগঠনিক থানা আমির মাওলানা রেজাউল করিম ও সহকারী সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম, দর্শনা পৌর শাখার আমির সাহিকুল আলম অপু, সাজ্জাদ আলী প্রমুখ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আল-কোরআনই ইসলামী রাজনীতির মূল ভিত্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ মকবুল হোসেন

রবিবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০২৫ ইং

০৬:৫৪ এম


আল-কোরআনই ইসলামী রাজনীতির মূল ভিত্তি

ইসলামী রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা কেবল একটি সামাজিক বা প্রশাসনিক কাঠামো নয়, বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধান। পবিত্র কোরআনে রাজনীতি, শাসনব্যবস্থা, ন্যায়বিচার, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, নাগরিক অধিকার এবং অপরাধবিষয়ক বিধানগুলো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো ইসলামী শাসনের মূলনীতি হিসেবে গণ্য করা হয়। যার বিস্তারিত ব্যাখ্যা আমরা নবী কারিম (সা.)-এর সুন্নাহ, সাহাবিদের ঐকমত্য (ইজমা), কিয়াস, জনস্বার্থ ও শরিয়াসম্মত পদ্ধতিতে পরবর্তীতে পাই।

এটি ‘সিয়াসাহ শারইয়্যাহ’ নামে পরিচিত। পবিত্র কোরআনে রাজনীতির উল্লেখ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে করা হয়েছে। কোরআনের ভাষায়—‘বলে দাও, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু—সবই বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য। তাঁর কোনো অংশীদার নেই।

আর আমাকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এবং আমিই প্রথম আত্মসমর্পণকারী।’

(সুরা : আনআম, আয়াত : ১৬২-১৬৩)

একটি মানুষ তখনই প্রকৃত মুসলিম হতে পারে, যখন সে আল্লাহর সমস্ত আদেশের প্রতি সম্পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা কি কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস করো আর অন্য অংশে অস্বীকার করো? যারা এমন করে, তাদের জন্য দুনিয়াতে অপমান ছাড়া আর কী প্রতিদান রয়েছে? আর কিয়ামতের দিনে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে কঠোরতম শাস্তির দিকে।

আর তোমরা যা করো, আল্লাহ তা থেকে অজ্ঞ নন...।’

(সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ৮৫-৮৬)

পবিত্র কোরআনে ইসলামী রাজনীতির মূলনীতি উল্লেখ করা হয়েছে। শাসনব্যবস্থার কর্তৃত্ব আল্লাহর : পবিত্র কোরআনে উল্লেখিত হয়েছে, ‘নিঃসন্দেহে সৃষ্টি ও আদেশ শুধুমাত্র তাঁর।’

(সুরা : আরাফ, আয়াত : ৫৪)

অতএব, একজন প্রকৃত মুমিন সেই, যারা আল্লাহর বিচারের প্রতি সম্পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করে। আল্লাহ বলেন, “মুমিনদের কথা তো কেবল এই যে যখন তাদের আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে ডাকা হয়, যাতে তিনি তাদের মধ্যে বিচার করেন, তখন তারা বলে—‘আমরা শুনলাম এবং আনুগত্য করলাম।’ আর তারাই সফলকাম হবে।”

(সুরা : নুর, আয়াত : ৫১)

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আর যারা আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তার দ্বারা বিচার করে না, তারাই যালিম।’(সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৪৫)

রাষ্ট্রক্ষমতা পবিত্র আমানত : আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন আমানত। মহান আল্লাহ আমানত রক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা আমানতগুলো প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দাও।’

(সুরা : নিসা, আয়াত : ৫৮)

ন্যায়বিচারের সঙ্গে শাসন পরিচালনা : ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে, নিজের স্বার্থের বিষয়, নিকটাত্মীয় কিংবা শত্রুর ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! আল্লাহর জন্য দৃঢ়ভাবে ন্যায়বিচারক সাক্ষ্যদাতা হও। কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদের ন্যায়বিচার থেকে বিরত না করে। ন্যায়বিচার করো—এটাই তাকওয়ার সবচেয়ে নিকটবর্তী।’

(সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৮)

শাসকদের প্রতি শাসিতের আনুগত্য : শাসকদের ন্যায়বিচারের প্রতিদানে শাসিতের জন্য তাদের প্রতি আনুগত্য করা বাধ্যতামূলক। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যে যারা কর্তৃত্বশীল—তাদেরও।’(সুরা : নিসা, আয়াত : ৫৯)

তবে অবাধ্যতা, জুলুম ও কুফরির ক্ষেত্রে শাসকের আনুগত্য বৈধ নয়। কিয়ামতের দিন অন্যায় শাসকদের অনুসারীরা আফসোস করে বলবে, ‘হায়, যদি আমরা আল্লাহর আনুগত্য করতাম এবং রাসুলের আনুগত্য করতাম! আমাদের প্রভু, আমরা তো আমাদের নেতাদের ও প্রভাবশালীদের আনুগত্য করেছিলাম, আর তারা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল।’

(সুরা : আহজাব, আয়াত : ৬৬-৬৭)

শুরার (পরামর্শ) ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা : আল্লাহ তাঁর প্রিয় রাসুল (সা.)-কে বলেন, ‘আপনি তাদের (সাহাবিদের) সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পরামর্শ করেন।’(সুরা : আল ইমরান, আয়াত : ১৫৯)

রাসুল (সা.) সর্বদা পরামর্শকারী ছিলেন। তাই শুরা মুসলিম সমাজের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।

সংযম, আত্মরক্ষা ও যুদ্ধ : আল্লাহ মুসলমানদের ধৈর্য ধরতে বলেছেন, যতক্ষণ না প্রতিরোধের শক্তি অর্জিত হয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘অতএব ক্ষমা করো এবং উপেক্ষা করো, যতক্ষণ না আল্লাহ নিজেই নির্দেশ দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছুর ওপর ক্ষমতাশালী।’

(সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১০৯)

পরে মুসলমানরা যখন শক্তি অর্জন করেন, তখন আত্মরক্ষার অনুমতি দেন—‘যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে, তাদের যুদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কারণ তাদের প্রতি যুলুম চলছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাহায্য করতে সক্ষম।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৩৯)

এবং শত্রুর বিরুদ্ধে সার্বিক যুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়—‘আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো তাদের সঙ্গে, যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে, কিন্তু সীমা অতিক্রম কোরো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমা লঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৯০)

শান্তিচুক্তি উত্তম পন্থা : মুসলিম রাষ্ট্রের স্বার্থের দিকে ঝোঁক করে শান্তিচুক্তি অনুসরণ করার অনুমতি আছে, বরং এটি উত্তম পন্থা। আল্লাহ বলেন, ‘যদি তারা শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তাহলে তুমিও তার দিকে ঝুঁকে পড়ো এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করো।’

(সুরা : আনফাল, আয়াত : ৬১)

হুদাইবিয়ার শান্তিচুক্তি এটি একটি বাস্তব উদাহরণ। তবে শক্তি অর্জনের পর দুর্ভাবনা দেখানো এবং শত্রুর ওপর নির্ভর করে থাকা নিষিদ্ধ।

মুসলিম রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকদের মর্যাদা : মুসলিম দেশে সংখ্যালঘুরা মুসলমানের মতো সামাজিক অধিকার ভোগ করেন। তাদের প্রতি বৈষম্য প্রদর্শনের কোনো সুযোগ নেই। ইসলাম ইচ্ছা প্রকাশ করে সংখ্যালঘুদের সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে। আল্লাহ তাআলা অমুসলিমদের সঙ্গে সুবিচারপূর্ণ আচরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কোরআনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ‘যারা দ্বিনের ব্যাপারে তোমাদের সাথে লড়াই করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের বাড়িঘর থেকে বের করে দেয়নি, তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার ও ইনসাফ করতে আল্লাহ নিষেধ করেননি। নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফকারীকে পছন্দ করেন।’

(সুরা : মুমতাহিনা, আয়াত : ৮)

সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে করণীয় : আল্লাহ তাআলা মানব সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বলেন, ‘যদি মুমিনদের দুই দল যুদ্ধবিগ্রহে লিপ্ত হয়, তবে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। আর যদি একটি দল অন্যটির ওপর জুলুম করে, তবে সেই দলটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যতক্ষণ তারা আল্লাহর হুকুমে ফিরে না আসে। আর যদি তারা ফিরে আসে, তবে তাদের মধ্যে ন্যায়সংগতভাবে শান্তি স্থাপন করো এবং ন্যায় বজায় রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।” (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ৯)

চুরি, ডাকাতি ও সন্ত্রাসের শাস্তি : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘চোর পুরুষ হোক বা নারী—তাদের হাত কেটে ফেলো, তাদের কৃতকর্মের প্রতিফলস্বরূপ এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে। আল্লাহ পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা : মায়িদাহ, আয়াত : ৩৮)

দেশের সন্ত্রাস এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের শাস্তি বিষয়ে বলেন, ‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং দেশে অশান্তি ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তির উদ্যেশ্যে—তাদের হত্যা করা হবে অথবা ক্রুশবিদ্ধ করা হবে, অথবা তাদের হাত-পা বিপরীত নির্দেশে কেটে ফেলা হবে, অথবা তাদের দেশান্তরিত করা হবে। এটা হলো তাদের জন্য দুনিয়ার লাঞ্ছনা এবং আখিরাতে ভয়াবহ শাস্তি।’ (সুরা : মায়িদাহ, আয়াত : ৩৩)

হকদারকে হক দিয়ে দাও : যার যা হক, তা তাকে যথাসময়ে পৌঁছে দেবে। আল্লাহ বলেন, ‘...তোমরা তার ফল থেকে আহার করো, যখন তা ফলদান করে এবং ফল কাটার দিনেই তার হক দিয়ে দাও। আর অপচয় কোরো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৪১)

সুতরাং ইসলামী রাজনীতি কেবলমাত্র ক্ষমতার জন্য লড়াই নয়, তা আল্লাহর ইবাদতের একটি অংশ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আল্লাহ জীবন ও মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন মানুষের পরীক্ষা নেওয়ার উদ্দেশ্যে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ মকবুল হোসেন

রবিবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০২৫ ইং

০৭:০২ এম


আল্লাহ জীবন ও মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন মানুষের পরীক্ষা নেওয়ার উদ্দেশ্যে

মানবজীবন ও মৃত্যুর মধ্যে একটি অটুট সম্পর্ক বিদ্যমান। একটি ভূমির জীবন, অন্যটি আখেরাতের এবং অবশ্যম্ভাবী। মৃত্যুর আগে মানুষ যে আমলগুলো করবে, সেগুলোর ফলাফল আল্লাহ তাআলা আখেরাতে প্রদান করবেন।

জীবন ও মৃত্যু, এই দুটি অমোঘ বাস্তবতাকে আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন, যা মানুষকে পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গড়ায়।

পবিত্র কোরআনে উল্লেখিত আছে, যিনি জীবন ও মৃত্যু সৃষ্টি করেন, তার উদ্দেশ্য হল তোমাদের পরীক্ষা করা। তাছাড়া, তোমাদের মধ্যে কে আমলের দিক থেকে সর্বোত্তম। আল্লাহ মহাশক্তিমান এবং অতিশয় ক্ষমাশীল। (সুরা আল-মুলক, আয়াত: ০২)

যদি নিয়ত সঠিক হয়, তবে মৃত্যুর পরও যে আমলের সাওয়াব অর্জন করা যাবে, সে বিষয়ে হাদিসের আলোকে সংক্ষেপে আলোচনা করা হচ্ছে।

***ইলম শিক্ষা দেয়া:*** রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কাউকে ইলম শিক্ষা দিলো, সে ইলম অনুযায়ী আমলকারী যতক্ষণ থাকে, তার সমপরিমাণ সওয়াব তার আমলনামায় যুক্ত হবে।’ (ইবনু মাজাহ, হাদিস নং: ২৪০)

***সৎ সন্তান রেখে যাওয়া:*** রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ মৃত্যুবরণ করার পর ৪টি আমলের সাওয়াব অব্যাহত থাকে: ১. যে ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা দিল, ২. ভালো কাজ চালু করে যারা অনুসরণ করল, ৩. প্রবাহিত সাদাকাহ, ৪. সৎ সন্তান রেখে যাওয়া।’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস নং: ২২২৪৭)

***মসজিদ তৈরি করা:*** মসজিদে নামাজের পাশাপাশি কুরআন শিক্ষা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য মসজিদ তৈরি করল, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে ঘর তৈরি করবেন।’ (মুসলিম, হাদিস নং: ১২১৮)

***কোরআন বিতরণ করা:*** যদি কেউ মসজিদ বা মাদরাসায় কোরআন বিতরণ করে, তাহলে সে এর সাওয়াব পাবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মৃত্যুর পর ৭টি আমলের সাওয়াব অব্যাহত থাকে: ১. ইলম শিক্ষা দেয়া, ২. পানি প্রবাহিত করা, ৩. কূপ খনন, ৪. গাছ রোপণ করা, ৫. মসজিদ তৈরি করা, ৬. কিতাব প্রদান করা, ৭. সৎ সন্তান রেখে যাওয়া।’ (মুসনাদুল বাজ্জার: ৭২৮৯)

***গাছ রোপণ:*** রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যদি কোন মুসলিম গাছ রোপণ করে, আর কেউ তা থেকে ফল খায়, সেটা তার জন্য সাদাকাহ।’ (মুসলিম, হাদিস নং: ৪০৫০)

***অভাবগ্রস্তদের ঘর তৈরি করা:*** মৃত্যুর পর যে আমলের সাওয়াব থাকবে, তা হলো ইলম শিক্ষা দেয়া, কিতাব রচনা, মসজিদ তৈরি, অভাবগ্রস্থদের জন্য ঘর তৈরি করা, পানি প্রবাহিত করা এবং সাদাকাহ বিতরণ করা। (ইবনু খুযাইমাহ: ২৪৯)

***খাওয়ার পানির ব্যবস্থা:*** রাসুল (সা.) একটি ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত করেছেন যে, পানির ব্যবস্থা করার জন্য সাওয়াব রয়েছে। (বুখারি, হাদিস নং: ৬০০৯)

***সীমান্ত রক্ষা করা:*** ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা দিয়ে মারা গেলে, সেসব কাজ চলমান থাকবে। (ইবনু মাজাহ, হাদিস নং: ২২৩৪)

***প্রবাহিত পানির ব্যবস্থা:*** রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে পানি প্রবাহিত করার ব্যবস্থা করল, তার জন্য জান্নাত রয়েছে।’ (বুখারি, হাদিস নং: ২৭৭৮)

***আল্লাহর দিকে দাওয়াত:*** কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যার চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে ডাকলো?’ (সুরা হামিম সিজদাহ, আয়াত: ৩৩)

***বইপত্র রচনা:*** মানুষের কল্যাণে বইপত্র রচনা করা, তা ভাল কাজের পথপ্রদর্শকের মতো কাজ করবে। (তিরমিজি, হাদিস নং: ২৬৭০)

***সদকায়ে জারিয়া:*** আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্য রাখতে হবে সদকায়ে জারিয়া করতে, যেমন- মাদরাসা নির্মাণ, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি। (মুসলিম, হাদিস নং: ৪৩১০)

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে উত্তম আমল করার সুযোগ দিন এবং আমাদের আমল কবুল করুন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভবনে ফাটল ধরা পড়ায় ঐতিহ্যবাহী মালিবাগ মাদরাসা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে নভেম্বর, ২০২৫ ইং

০৭:০৫ এম


ভবনে ফাটল ধরা পড়ায় ঐতিহ্যবাহী মালিবাগ মাদরাসা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পের ফলে ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ায় রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী কওমি মাদরাসা জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২২ নভেম্বর) রাত পৌনে ১১টায় এ বিষয়ে তথ্য নিশ্চিত করেছেন মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি আব্দুস সালাম।

তিনি স্পষ্ট করেছেন, আজ থেকে এক সপ্তাহ মাদরাসাটি ছুটি থাকবে।

এই প্রসঙ্গে, মালিবাগ মাদরাসার মুহতামিম মুফতি আবু সাঈদ গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, আমরা এই মাদরাসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ছাত্রদের সুরক্ষা বিবেচনায় নিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আফটার শক চলতে থাকার কারণে ছাত্রদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে, তাই আমাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৭হিঃ
ফজর ০৫:০৮
জোহর ১১:৫১
আসর ০৩:৩৬
মাগরিব ০৫:১২
ইশা ০৬:২৭
সূর্যোদয় : ০৬:২৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%