বুধবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
০৩:২২ এম
সরকারি চাকরি ত্যাগ করে রাজনীতি, আন্দোলন এবং সংগ্রামের দীর্ঘ পথ পার হয়ে কক্সবাজার-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের কাছে তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করেন। এর আগে, আজ সকালে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, যিনি জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ।
১৯৯৬ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ইসলামীর আব্দুল্লাহ আল ফারুখকে ৯৫ হাজার ৮৩০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেন। কক্সবাজারের দুই উপজেলা চকরিয়া ও পেকুয়া নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-১ আসন থেকে তিনি পূর্বেও ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ লাভ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সেই সরকারের শেষ পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।স্বাধীনতার পর কক্সবাজার জেলা থেকে তিনিই প্রথম প্রতিমন্ত্রী।
১৯৬২ সালে কক্সবাজারের পেকুয়া ইউনিয়নের সিকদার পাড়ায় সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তার পিতার নাম মৌলভি ছাঈদুল হক এবং মাতার নাম বেগম আয়েশা হক। আজকের শপথের মাধ্যমে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পর কক্সবাজার থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করা প্রথম পূর্ণ মন্ত্রী হন।
১৯৮৫ সালে ৭ম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৮৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। বগুড়া জেলা প্রশাসনে সিনিয়র সহকারী সচিব ছিলেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর তিনি প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহকারী সচিব হিসেবে নিযুক্ত হন।
১৯৯৬ সালে চাকরি ছেড়ে রাজনীতি শুরু করার পর, তিনি পেকুয়া এলাকার বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরপর তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে, সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে কক্সবাজার-১ আসন থেকে নির্বাচিত হন।
সরকারি চাকরি ছাড়ার পর, আন্দোলন-সংগ্রামের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে সালাহউদ্দিন আহমদ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন, যা তার রাজনৈতিক জীবনের নতুন এক অধ্যায়।
সালাহউদ্দিন আহমদের সাফল্যের কথা উল্লেখ করতে গেলে দেখা যায়, তিনি ১৯৭৭ সালে শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় রেকর্ড নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম কলেজে এইচএসসিতেও অসাধারণ ফল করেন। ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং সেখানে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৫ সালের শাহবাগ আন্দোলনের সময় বিএনপির মুখপাত্র থাকাকালীন, গুমের শিকার হন তিনি। ৬২ দিন পর সেখান থেকে উদ্ধার হন। ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি দেশে ফিরে আসেন।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি চকরিয়াতে একটি নির্বাচনী সভায় সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমার বেঁচে থাকার কথা ছিল না। আপনাদের দোয়ায় আমি নতুন জীবনে ফিরে এসেছি।’ কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা স্বপ্না জানিয়েছেন, ‘সালাহউদ্দিন আহমদ পূর্ণমন্ত্রী হওয়ায় আমরা গর্বিত। এটি জেলা ও দেশের জন্য বড় অর্জন।’
কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মন্তব্য করেন, ‘আজকের দিনটি আমাদের জন্য গৌরবের। সালাহউদ্দিন আহমদের যোগ্য নেতৃত্বে কক্সবাজার সমৃদ্ধ হবে।’ উল্লেখ্য, তিনি চার সন্তানের জনক এবং তার স্ত্রী হাসিনা আহমদ ২০০৮ সালের নির্বাচনে কক্সবাজার-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যশোরের চৌগাছা উপজেলায় গত দুই দিনব্যাপী খেজুর গুড়ের মেলা আয়োজন করা হয়েছে। 'যশোরের যশ, খেজুরের রস' এই ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মেলার আয়োজন করা হয়।
মেলার সূচনা উপলক্ষে মঙ্গলবার চৌগাছা উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি র্যালি বের হয়। শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর আহমদ ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন।
মেলায় ১৫টি স্টলে চাষিরা তাদের নিজস্ব প্রস্তুত করা খেজুর গুড়, পাটালি এবং অন্যান্য কৃষিপণ্য নিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। অংশগ্রহণকারী হাকিমপুর ইউনিয়নের মাঠ চাকলা গ্রামের গাছি আবদুল কুদ্দুস বলেন, প্রতিবছর খেজুর গুড়ের মেলা হওয়ায় গাছিরা বিপুল উপকার পাচ্ছেন। খেজুর গুড়ের পাটালির চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। গাছিরা রস, গুড় ও পাটালির ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন।
সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের গাছি ইব্রাহিম খলিল জানান, আমরা প্রজন্মান্তরে খেজুর গুড় পাটালি তৈরি করে আসছি। মেলায় বিশেষভাবে তৈরি হাজারি গুড় (সাদা রঙের পাটালি) নিয়ে এসেছি, যা মানিকগঞ্জে হাজারি গুড় নামে পরিচিত। এই বিশেষ ধরনের গুড়ের চাহিদা ও মূল্য উভয়ই বেশি।
চৌগাছা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোশাব্বির হুসাইন বলেন, যশোরের খেজুর রসের গুড়ের ঐতিহ্য দীর্ঘ কয়েকশ বছর ধরে চলে আসছে। জেলায় প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার খেজুর গুড় পাটালি উৎপন্ন হয়। যশোরের গুড় পাটালির সুনাম জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রয়েছে। সময়ের পরিবর্তনে এই ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে। অতএব, প্রশাসন ঐতিহ্যটির সুরক্ষা ও সম্প্রসারণের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ জানান, যশোরে উৎপাদিত খেজুর গুড় অর্গানিক হওয়ায় এটি ব্যাপক চাহিদা পেয়েছে। এ অঞ্চলের খেজুর গুড় পাটালি দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চৌগাছায় এই মেলার আয়োজন করা হয়। ফলে, এই বছরও মেলার আয়োজন করা হলো। ইতোমধ্যে খেজুর গুড় যশোরের জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। জেলায় প্রতিবছর প্রায় ১০০ কোটি টাকার গুড় উৎপাদন হয়ে থাকে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের এক অংশ অত্যন্ত অবহেলিত রয়েছে। পিছিয়ে পড়া এবং প্রান্তিক মানুষের ভাগ্য ও জীবনমান উন্নয়নে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা তার জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল। তিনি বলেন, এবারের সংসদে তার অবস্থান দেশের এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে থাকবে। বিশেষ করে তার নির্বাচনী এলাকায় অত্যন্ত অবহেলিত, পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক মানুষের ভাগ্য ও জীবনমান উন্নয়নে তিনি বহুমাত্রিকভাবে কাজ করবেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তিনি এসব কথা বলেন। তবে তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়া থেকে বিরত থেকেছেন।
বিএনপিতে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, নির্বাচনের পর বিএনপির পক্ষ থেকে এখনও আমার সাথে যোগাযোগ করা হয়নি। এই মুহূর্তে বিএনপিতে ফিরতে পারার কোন সম্ভাবনা নেই।
একটি অন্য প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেয়ে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। আমি বিএনপির সদস্য হয়ে উঠেছি বলে কিছু নেই। কেন আপনারা সবসময় আবেগকে অনেক কিছুতে গুলিয়ে ফেলতে চান? আমি একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক ছিলাম এবং দেশের ও মানুষের পক্ষে সেই দলের হয়ে কথা বলেছি, কিন্তু আমাদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, তাই আমি সরে গেছি। এখানে আবেগের কোনো বিষয় নেই বলে আমার মনে হয়।
নির্বাচনী লড়াই নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, এই লড়াইটা আমার জন্য খুবই কঠিন ছিল। কারণ একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একটি দলের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে ভোটে অংশ নেয়া নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমাকে নানা ভাবে চেষ্টা করা হয়েছে যাতে আমি পরাজিত হই। কারণ এটি হয়ে উঠেছিল একটি ইগোর সমস্যা—যে, দলের চেয়ে ব্যক্তির ইমেজ কেন বেশি হতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনার তেরখাদায় গভীর রাতে একটি খামারের তালা ভেঙে চোরের দল চারটি ফ্রিজিয়ান জাতের গরু চুরি করে নিয়ে গেছে।
সোমবার রাতে ইখড়ি গ্রামে এ চুরির ঘটনা ঘটান। এরপর, খামারের মালিক চাঁন মিয়া শেখ তেরখাদা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। উল্লেখ্য, এর আগে গ্রামটিতে একইভাবে গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এ দিকে, একের পর এক গরু চুরির ঘটনায় এলাকায় খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক খামারি এখন রাতের বেলাতে তাদের গরু পাহারা দিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী চাঁন মিয়া শেখ বলেন, সংঘবদ্ধ চোর চক্রটি গাড়িতে করে এসে খামারের দরজার তালা ভেঙে চারটি গরু নিয়ে যায়, যেগুলোর মধ্যে একটি বাছুরসহ ফ্রিজিয়ান জাতের গাভী রয়েছে। গাভীটি প্রতিদিন ৭-৮ কেজি করে দুধ দেয়।
তিনি আরও জানান, সোমবার রাতে তিনি গরুগুলোকে আলাদা করে বেঁধে রেখে খামারের দরজায় তালা লাগিয়ে বাড়িতে ঘুমাতে যান। পরদিন মঙ্গলবার ভোরে এসে দেখেন, তালা ভাঙা আছে। গরুগুলো খুবই মোটাতাজা, যা এক বা দুইজনের পক্ষেও নিয়ে যাওয়ার মতো নয়। তিনি ধারণা করছেন, কমপক্ষে ৭-৮ জন লোক খামারের তালা ভেঙে গরুগুলো নিয়ে গেছে। এসব গরুর দাম প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা।
চুরি হওয়া গরুগুলো উদ্ধার করতে এবং ভবিষ্যতে গরু চুরি বন্ধ করতে খামারিরা বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
তেরখাড়া থানার ওসি মো. শহিদুল্লাহ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। গরু চুরি রোধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি তারেক রহমানকে বাংলাদেশ সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী’ পদে নিয়োগ দিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে।
এ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফার আলোকে রাষ্ট্রপতি আজ এই নিয়োগ দিয়েছেন।
প্রজ্ঞাপনটি আজ বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ