০৩:৫১ পি.এম
বিভিন্ন মানুষের জীবনে বিচিত্রভাবে যে সদগুণাবলির বিকাশ ঘটে, তা নবীজির অস্তিত্বের মাধ্যমে চরম উৎকর্ষে পৌঁছেছিল। তিনি ছিলেন চিন্তা-চেতনার সঠিকতা, পারদর্শিতা এবং ন্যায়পরায়ণতার উজ্জ্বল প্রতীক।
শত দোষ, অশ্লীলতা ও অনাচার পরিবেষ্টিত সমাজে বসবাস করেও তিনি ছিলেন সেসবের ঊর্ধ্বে, মুক্ত ও পবিত্র। শরাবপায়ীদের সঙ্গেও বসবাস করলেও তিনি জীবনে কখনো শরাব স্পর্শ করেননি। দেব-দেবীর স্থান থেকে জবাইকৃত পশুর গোশতও তিনি আপ্রাণ avoided করে গেছেন এবং মূর্তির নামে কোন খেলাধুলায় অংশ নেননি।
জীবনের প্রারম্ভটিতে তিনি তৎকালীন সমাজের সব মিথ্যা উপাস্যকে ঘৃণা করতেন। তাঁর ঘৃণার মাত্রা এতটাই ছিল যে, অন্য কিছু তাঁর দৃষ্টিতে এত নিন্দনীয় মনে হয়নি। এমনকি লাত ও উযযার নামে শপথ করার ব্যাপারটি শোনার পর তিনি তা সহ্য করতে পারতেন না। (ইবনু হিশাম : ১/১২৮)
আরও পড়ুন: সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু, প্রথম দিনে ১১৭৪ জন পর্যটক পৌঁছেছেন
মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম থেকেই শিরক ও মূর্তিপূজা এবং সংশ্লিষ্ট সব ধরনের নোংরামি থেকে সম্পূর্ণভাবে পবিত্র ছিলেন। ইবনু হিশাম বর্ণনা করেছেন যে, নবীজির যৌবনে আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করতেন এবং জাহেলিয়াতের নোংরামি থেকে বাঁচিয়ে রাখতেন। আল্লাহর ইচ্ছা ছিল যে, তিনি নবুওয়াত ও রিসালত লাভ করবেন এবং সম্মানে ভূষিত হবেন। তিনি উক্ত চরিত্রের সঙ্গে সত্যবাদিতার জন্য শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন। (সিরাতে ইবনু হিশাম, ১/৬২)
হজরত আলি রা. থেকে জানা যায়, নবীজিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘আপনি কি কখনো মূর্তিপূজা করেছেন?’ তিনি বলেন, ‘নাহ।’ তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় এগুলোকে কুফুরি মনে করতাম, যদিও সে সময় আমার ধর্মীয় জ্ঞান ছিল না।’ (আবু নুআইম ও ইবনু আসাকির)
নবীজির কাজ-কর্ম ছিল সবচেয়ে অনুকরণীয়, তাঁর চরিত্র ছিল উৎকৃষ্ট এবং মহানুভবতা ছিল সবার জন্য অনুসরণীয়। তিনি ছিলেন সব সময় শিষ্টাচারী, নম্র, সদালাপী ও সদাচারী। তিনি ছিলেন সবচেয়ে দয়ার্দ্র, দূরদর্শী এবং সত্যবাদী। মিথ্যা কখনো তাঁর উপর প্রভাব ফেলতে পারেনি। সত্যবাদিতার জন্য এতই খ্যাতি অর্জন করেছিলেন যে, আরবের সবাই তাঁকে ‘আল-আমিন’ বলে ডাকতেন।
আরও পড়ুন: টঙ্গীতে জোড় ইজতেমায় একটি মুসল্লির মৃত্যু
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন