০৩:৪৪ পি.এম
শেরপুরের পাহাড়ি এলাকায় কৃষি কর্মকর্তাদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না কৃষি জমির ফসলি মাঠে। যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবের কারণে ক months ধরে এই গ্রামে কৃষি বিভাগের কর্মীরা আসছেন না। কৃষকদের জন্য শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় দোকানির পরামর্শ এবং তাদের পূর্বপুরুষদের অভিজ্ঞতা। তবে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে স্পষ্ট অভিযোগ পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানা গেছে, সীমান্তে অবস্থিত উঁচু-নিচু কৃষি জমিতে সবজি ও ধান চাষের ক্ষেত্রেও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের আর দেখা যায় না।
শেরপুর জেলার পাহাড়ি জনপদ শ্রীবর্দী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ীর কৃষকেরা অভিযোগ করছেন যে, ফসলের রোগ-বালাই থেকে মুক্তি পেতে সময়মত সঠিক পরামর্শের অভাবে তাদের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ও উৎপাদন কমে যাচ্ছে, ফলে তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
আরও পড়ুন: নাটোরে সারের দাবি নিয়ে কৃষকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ
এই এলাকাগুলোতে কৃষকরা কৃষি বিভাগের সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়ে হতাশ। তাই তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় দোকান থেকে পাওয়া কীটনাশক ব্যবহার করছেন। অনেক সময় সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে তাদের ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।
তারা দাবি করেন, সীমান্তের পাদদেশে অবস্থিত কৃষি জমিতে সরকারি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি জরুরি।
ঝিনাইগাতীর গোমরা গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘সীমান্ত সড়কের উত্তর পাশে কৃষি বিভাগের কেউ আসে না। তারা শুধুমাত্র স্থানীয় বাজারে বসে সার ও কীটনাশকের দোকানে আসা কৃষকদের সঙ্গে মতামত শেয়ার করে।’
একই গ্রামের ষাটোর্ধ একজন কৃষক জানাচ্ছেন, ‘দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে আমি এই সীমান্ত গ্রামের ফসলের মাঠে কোনো কৃষি কর্মকর্তাকে দেখি নি। পোকামাকড়ের আক্রমণের সময় আমরা নিজেরাই বিভিন্ন ধরনের বিষ এনে ব্যবহার করি। এর ফলে আমাদের আর্থিক অবস্থার উপর ব্যাপক ক্ষতি পড়ছে। আমরা আশা করি, যদি কৃষি কর্মকর্তারা আসেন, তাহলে আমাদের ফসল আরও ভালো হবে এবং আমরা লাভবান হবো।’
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য কুরআন খতম ও খাবার বিতরণ
ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন বলেছেন, যারা তাদের দায়িত্বে অবহেলা করছেন, যদি কৃষকরা অভিযোগ করেন, তবে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী পাহাড়ি জনপদের কৃষকরা যাতে সঠিক পরামর্শ পান, সেজন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হবে। যাতে কৃষকরা আরও বেশি ধান ও সবজির উৎপাদন করতে সক্ষম হন।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, প্রতিটি ইউনিয়নে তিনজন করে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রয়েছেন কৃষকদের ফসলের মাঠে উপস্থিত থেকে যাবতীয় পরামর্শ দিতে।
আরও পড়ুন: সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু, প্রথম দিনে ১১৭৪ জন পর্যটক পৌঁছেছেন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন