সোমবার, ২৪শে নভেম্বর, ২০২৫ ইং
০৩:৪৪ পি.এম
বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে একটি নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে সরকার। ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে দেশের ২১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া ডিজিটাল নামজারি পদ্ধতি দ্রুততার সাথে সারাদেশে সম্প্রসারিত হতে যাচ্ছে। এই নতুন পদক্ষেপ জমির মালিকানা সম্পর্কিত আইনি জটিলতাকে দূর করবে এবং ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাবে।
নতুন আইন অনুযায়ী, এখন থেকে মাত্র দলিল থাকলেই জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হবে না। ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩’ অনুযায়ী, নামজারি সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নামজারি কেন জরুরি তা নিয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে: নামজারি সম্পন্ন না হলে ব্যক্তি সরকারের রেকর্ডে জমির প্রকৃত মালিক হিসেবে গণ্য হবে না। এই কারণে জমি বিক্রি, উত্তরাধিকারসূত্রে হস্তান্তর বা জমির খাজনা পরিশোধ করা সম্ভব নয়। জমির মালিকানা নিয়ে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র দলিলের ভিত্তিতে জমি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই জমি কেনার পর দ্রুত নামজারি সম্পন্ন করাই বর্তমানে বৈধতার একমাত্র উপায়।
বর্তমানে, নামজারির জন্য আবেদন অনলাইনে দেওয়া যাচ্ছে এবং এর জন্য সরকার নির্ধারিত ফি ১১৭০ টাকা। আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রার্থীদের এসএমএস-এর মাধ্যমে শুনানির তারিখ জানানো হয়। যদি কারও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও নামজারি না হয়, তবে তারা ভূমি মন্ত্রণালয়ের সহায়তা নম্বরে ১৬১২২ ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারবেন। প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ সেনাবাহিনীর সহায়তার কথাও উল্লেখ করেছে।
নামজারি ছাড়া জমির বিপরীতে নানা বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর ফলে আপনার জমি অন্য কেউ বিক্রি করতে সক্ষম হতে পারে এবং আইন অনুযায়ী আপনার মালিকানা স্বীকৃত হবে না, ফলে ডিজিটাল রেকর্ডে আপনার মালিকানা যুক্ত হবে না। সরকার জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে নামজারি ছাড়া দলিলের মাধ্যমে জমি রেকর্ড না করার নির্দেশনা দিয়েছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে নামজারি সম্পন্ন করে নিজেদের মালিকানা নিশ্চিত করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যশোরের ঝিকরগাছার ঝিকরগাছা থানা এলাকায় কামরুজ্জামান হত্যা মামলায় আদালত ওসমান গণি ও আলী হোসেন নামের দুই ভাইকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ প্রদান করেছে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরের সময় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক জুয়েল অধিকারী এই রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত দুই ভাই হলেন: ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের ছোট পোদাউলিয়া গ্রামের মৃত ছবেদ আলী সরদারের সন্তান ওসমান গণি এবং আলী হোসেন। মামলার অন্য আসামি, দুই ভাইয়ের স্ত্রী খাদিজা খাতুনকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পিপি আজিজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিশদ বিবরণ অনুযায়ী, ছোট পোদাউলিয়া এলাকার নুরুল হকের ছেলে কামরুজ্জামানের সাথে তার চাচা ওসমান এবং আলী হোসেনের জমি নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে বিরোধ চলছিল।
২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়ে কামরুজ্জামানের সঙ্গে ওসমান ও আলী হোসেনের তর্কবিতর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে দুই ভাই বাড়ি থেকে ধারালো দা এনে কামরুজ্জামানকে নির্মমভাবে কুপিয়ে জখম করে। কামরুজ্জামানকে বাঁচানোর চেষ্টায় তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী আনোয়ারা, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী পারভীন এবং ভাইপো আতাউর রহমানও হামলার শিকার হন।
আঘাতকৃত চারজনকে কুপিয়ে পলাতক হয়ে যায় দুই ভাই। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চারজনকেই যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে আনার পর কামরুজ্জামানের মৃত্যু ঘটে। আহত অন্য তিনজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এই ঘটনার পর নিহত কামরুজ্জামানের বাবা রুহুল আমিন সরদার থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩ জুলাই ঝিকরগাছা থানার উপ-পরিদর্শক বনি ইসরাইল আদালতে চার্জশিট জমা দেন। ওসমান এবং আলী হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় আজ তাদের ফাঁসির আদেশ দেয়া হয় এবং প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অপরদিকে, খাদিজা খাতুনকে খালাস দেয়া হয়।
পিপি আজিজুল ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘হত্যা মামলায় দুই বছরের মধ্যে রায় দেওয়াটা তাই নজিরবিহীন। রাষ্ট্রপক্ষ রায়ে সন্তুষ্ট।’
অন্যদিকে, আসামিপক্ষ দাবি করেছে যে, তারা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যশোরের ঝিকরগাছায় কামরুজ্জামান হত্যার ঘটনায় ওসমান গণি ও আলী হোসেন নামে দুই ভাইকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক জুয়েল অধিকারী এ রায় উপস্থাপন করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত দুই ভাই হলেন: ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের ছোট পোদাউলিয়া গ্রামের মৃত ছবেদ আলী সরদারের পুত্র ওসমান গণি এবং আলী হোসেন। একই মামলায় অপর আসামি ওসমানের স্ত্রী খাদিজা খাতুনকে মুক্তি দেয়া হয়।
অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তথ্য অনুসারে, ছোট পোদাউলিয়া গ্রামের নুরুল হকের সন্তান কামরুজ্জামানের সাথে তার চাচাতো ভাই ওসমান ও আলী হোসেনের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জমির সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ নিয়ে কামরুজ্জামানের সঙ্গে উভয় ভাইয়ের বেশ বড় বচসা হয়। এক পর্যায়ে, তারা বাড়ি থেকে ধারালো দা এনে কামরুজ্জামানকে নির্মমভাবে কুপিয়ে আহত করেন। কামরুজ্জামানকে রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী আনোয়ারা, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী পারভীন এবং ভাইপো আতাউর রহমানও হামলার শিকার হন।
দুই ভাই হামলা শেষে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার খারাপ হলে সকলকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে কামরুজ্জামানের মৃত্যু ঘটে। বাকি তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এ ঘটনায় নিহত কামরুজ্জামানের বাবা রুহুল আমিন সরদার থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তী সময়ে মামলার তদন্ত শেষে, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই ঝিকরগাছা থানার উপ-পরিদর্শক বনি ইসরাইল আদালতে চার্জশিট প্রদান করেন। অভিযোগগুলো প্রমাণিত হওয়ায় আজ দুই ভাইয়ের ফাঁসির আদেশ এবং তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অপর দিকে, খাদিজা খাতুনকে খালাস দেয়া হয়।
পিপি আজিজুল ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘হত্যার মামলায় দুই বছরের মধ্যে রায় দেয়া একটি নজিরবিহীন ঘটনা। সরকার পক্ষ এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।’
অন্যদিকে, আসামি পক্ষ অভিযোগ করেছেন যে, তারা সঠিক বিচার পাননি এবং উচ্চ আদালতে আপিল করার পরিকল্পনা করছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রধান উপদেষ্টা কমনওয়েলথের সাহায্য চেয়ে কথা বলেছেন।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা বৈঠক করেন কমনওয়েলথের মহাসচিব শার্লি আয়রকর বচওয়ের সঙ্গে, যেখানে তিনি এই সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।
কমনওয়েলথ আসন্ন নির্বাচনে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ দল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে এবং তারা বাংলাদেশের নির্বাচনে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে।
বৈঠকটি চলাকালীন, প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "আমাদের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সফলভাবে আয়োজনের জন্য আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।"
শার্লি বচওয়ে ওই সময় আশ্বস্ত করে বলেন, "কমনওয়েলথ বাংলাদেশকে নির্বাচন এবং নির্বাচন-পরবর্তী উত্তরণ প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহায়তা দেবে।"
তিনি উল্লেখ করেন, "কমনওয়েলথের ৫৬টি দেশ রয়েছে, যার মধ্যে জি–৭ ও জি–২০ সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত। এর মাধ্যমে একে অপরকে সহায়তা করার অনেক সুযোগ বিদ্যমান।"
কমনওয়ালথের মহাসচিব জানান, তিনি দেশের প্রধান বিচারপতি, আইন উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
তিনি বলেন, "আমি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে খুবই আশাবাদী। কমনওয়েলথ ভোটের আগে বেশ কিছু পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।"
দুই নেতা তারুণ্যের ক্ষমতায়ন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, সামাজিক ব্যবসার সৃষ্টি এবং বেকারত্ব, কার্বন নিঃসরণ ও বৈষম্য হ্রাসের লক্ষ্যে 'তিন-শূন্য' তত্ত্ব বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান উল্লেখ করেছেন যে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভূমিকম্পের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রাপ্তির জন্য বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
তিনি সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানে এ তথ্য প্রদান করেন।
রিজওয়ানা হাসান জানান, ঝুঁকি মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। ঝুঁকি সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য বিভিন্ন অঞ্চলভিত্তিক ফার্মগুলোর ওপর সার্ভে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
রাজউকের ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্রুত সার্ভের কাজ সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তা তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় শিল্প, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, থার্ডপার্টির মাধ্যমে ঝুঁকি মূল্যায়ন করার জরুরি প্রয়োজন রয়েছে। রাজউককে আরও শক্তিশালী করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেছেন, ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি ট্রাস্ট গঠনের কাজ অব্যাহত আছে।
রাজধানীতে প্রায় ৩০০টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে, বলেছিলেন রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম।
তিনি আরও বলেছেন, যদি সমন্বিতভাবে কাজ না করা যায়, তবে ভূমিকম্পের পরের পরিস্থিতি মোকাবেলা করা দুরূহ হয়ে উঠবে। সরকারকে আহ্বান জানানো হয়েছে, সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।
রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভবন নির্মাণের অনুমোদন যথাযথ নিয়ম মেনে দেয়া হয়। তিনি স্পষ্ট করেন, অর্থের বিনিময়ে রাজউকে কোনো কাজ সম্পন্ন হয় না।
রাজউক কাউকে প্ল্যান করে দেয় না। বাড়ির মালিকদের তাদের ইঞ্জিনিয়ার বা আর্কিটেক্টের মাধ্যমে ভবনের পরিকল্পনা রাজউকে জমা দিতে হবে এই শর্তে যে তারা রাজউকের নিয়ম মেনে চলবে। পরবর্তীতে যদি নিয়ম ভঙ্গ করা হয়, তবে জরিমানা বা আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত। এই দায়িত্ব রাজউকের নয়।
তিনি আরো জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন, রাজউক এবং ফায়ার সার্ভিস নিজেদের আলাদাভাবে কাজ করার জন্য পরিস্থিতি বর্তমানে অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ