মঙ্গলবার, ১৭ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং
০৯:২১ পি.এম
চাঁদপুর, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ : চাঁদপুর শহরের পুরান বাজারে বীজ ভুট্টায় ছত্রাক নাশক এবং রঙ মিশিয়ে গবাদি পশুর খাদ্য উৎপাদনের অপরাধে মিল মালিককে ১ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে পুরান বাজারের বয়েজ রোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান।
তিনি জানান, অভিযান চলাকালীন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে বীজ ভুট্টাকে মিলে ভাঙানোর মাধ্যমে গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের অপরাধে হাছিনা ফ্লাওয়ার মিলস এর মালিককে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বীজ ভুট্টায় ছত্রাক নাশক ও রঙের প্রলেপ দেয়া থাকে, যা মানুষ বা গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা একদমই নিরাপদ নয়। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করেছে। এ সময় ছত্রাক নাশক ও রঙের প্রলেপ দেয়া বীজ ভুট্টার গুড়া ধ্বংস করা হয়।
এছাড়া নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেরও পরিদর্শন করা হয় এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট ও পাম্পলেট বিতরণ করা হয়।
অভিযানে সহায়তা প্রদান করেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আরিফুল হাসান, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন, জেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম এবং পুরান বাজার পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল। এই কর্তৃপক্ষ জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাট-৩ (মোংলা ও রামপাল) আসনে সমাজ সেবক হিসেবে পরিচিত হয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম চমক উপহার দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল বেলায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। ৩৫ বছর পর আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি ভেঙে এই আসনে তিনিই প্রথম বিএনপির সদস্য হিসেবে বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন মোংলা-রামপাল অঞ্চলে। লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মানুষজনের মধ্যে আনন্দের ঢল নেমেছে।
এদিকে, এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মোংলা ও রামপাল এলাকার বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উল্লাস দেখা গেছে। ডাক্তার শেখ ফরিদুল ইসলাম, যিনি এলাকায় সামাজিক এবং মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে চলেছেন, তিনি বাগেরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এক লাখ তিন হাজার ৭৭১ ভোট অর্জন করে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেন তিনি। লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বিনামূল্যের চোখের চিকিৎসা ও অসহায় মানুষের সহায়তার জন্য ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মোংলা পৌর বিএনপির সভাপতি জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মান্নান হাওলাদার বলেন, ‘ড. ফরিদুল ইসলাম প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। এই সংবাদে শুধুমাত্র দলের নেতাকর্মী নয়, পুরো বাগেরহাট জেলাবাসী সুখী। তবে মোংলা-রামপালের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানাচ্ছি।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভিন্ন দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতের সময় জাতীয় সংসদ ভবনে এই সাক্ষাৎগুলো পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
অত্যন্ত আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়া এই সাক্ষাৎকারে প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছেন: তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেরিস একিনচি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবাল, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা এবং শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম মন্ত্রী ড. নালিন্দা জয়াতিষা।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিরা তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অগ্রসর হবে। এসময় তারা আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসূচক বিষয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আগত প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান এবং বাংলাদেশ ও বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের প্রতিটি কার্যক্রম জটিলতায় স্থবির হয়ে আছে এমএসআর ক্রয় প্রক্রিয়ার কারণে। হাসপাতালটিতে রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন না। পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কেমিকেল এবং সরঞ্জামাদি না থাকার কারণে এক্স-রেসহ সকল ধরনের পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গেছে।
জেলার সাত উপজেলার মানুষের মূল ভরসা এই হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে এসে এখন অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে।
স্থানীয়ভাবে দেখা গেছে, এক্স-রে করার জন্য ফ্লিমের অভাবে সেবা বন্ধ রয়েছে এবং রোগীরা খালি হাতেই ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। জরুরী বিভাগ থেকেও গজ ব্যান্ডেজসহ অন্যান্য সরঞ্জাম বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এমএসআর ক্রয়ের জটিলতার কারণে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে থমকে গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের জন্য ৮ কোটি ৭২ লাখ ৬১ হাজার টাকার এমএসআর ক্রয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল ২ ফেব্রুয়ারি, কিন্তু তৎকালীন তত্ত্বাবধায়কের অনিয়ম ও প্রশাসনিক জটিলতায় পুরো এমএসআর ক্রয় প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৫-২০২৬ সালের অর্ধেক সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও এমএসআর ক্রয়ের কাজ হয়নি।
এদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ওষুধ না পাওয়ার ফলে রোগীরা বাইরে গিয়ে নিজেদের টাকায় ওষুধ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের রোগীরা এই সংকটে বেশি আহত হচ্ছেন।
এছাড়া, এক্রেরে, ড্রোপ টেস্টসহ সব ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা বন্ধ রয়েছে এবং আলট্রাসনোগ্রাফি গত দুই বছর ধরে বন্ধ। এমনকি জরুরী বিভাগের জন্য গজ ব্যান্ডেজও বাইর থেকে কিনতে হচ্ছে।
এক রোগী ইসমত জাহান বলেন, ‘আমি এখানে তিন দিন ধরে ভর্তি আছি, কোন ধরনের ওষুধ পাচ্ছি না, সব বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।’ আরেক রোগীর পরিবার রিয়াজ উদ্দিন জানান, হাসপাতালে আসা গেলে ওষুধ পাওয়া যেত, কিন্তু এখন পাওয়া যায় না। এর ফলে গরিব রোগীরা চিকিৎসা করতে পারছেন না।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ফজলুল বারী জানান, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকার কারণে এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. আসিফ স্বীকার করে জানান যে, প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ওষুধ ক্রয়ের কাজ সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে সরকারি সরবরাহকৃত ওষুধ দিয়ে ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা চলছে এবং দ্রুত ওষুধ কেনার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
জেলার সাত উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ হাসপাতালটির ওপর নির্ভরশীল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভোলা-৩ আসনের সাতবারের সংসদ সদস্য এবং বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তিনবারের মতো মন্ত্রী হলেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টায় তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর শপথ গ্রহণ করেন। এই ঘোষণার পর থেকেই তার নির্বাচনী এলাকা লালমোহন ও তজুমদ্দিনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে, নৃত্য ও গান পরিবেশন করে তারা উদযাপন করেন। আনন্দের সাথে মিষ্টিও বণ্টন করা হয়।
এর আগে মেজর হাফিজ দুবার বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি পাট ও পানিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
সংসদ ভবনে শপথ গ্রহণের পর সন্ধ্যায়, মেজর হাফিজের এলাকা তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপি অফিস থেকে নেতা-কর্মীরা আনন্দ মিছিল বের করে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলি প্রদক্ষিণ করে যায় তারা। একই সময়ে লালমোহন উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে থেকেও আনন্দ মিছিল বের হয়, যেখানে কেক ও মিষ্টির বিতরণ ঘটে। তারা নাচ-গান করে আনন্দ প্রকাশ করেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সাহসিকতার জন্য রাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্ব পদবী বীর বিক্রমে সম্মানিত হন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি ছিলেন তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক। ১৯৬৪ সাল থেকে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের সুদর্শন মানব হিসেবে তিনবার পরিচিত হন। তার পিতা ডাক্তার আজহার উদ্দিন ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর রাজনীতিতে আসেন এবং মানুষের মনে স্থান করে নেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোলা-৩ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে consecutively দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরশাদ পতনের পর ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে, তিনি ভোলা-৩ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। বিপুল ভোটের ব্যবধান নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের পরাজিত করেন তিনি।
বিজয়ের পর ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও সপ্তম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন। খালেদা জিয়ার মন্ত্রী পরিষদে তিনি ১৯ মার্চ ১৯৯৬ থেকে ২৯ মার্চ ১৯৯৬ পর্যন্ত বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেন; এবং ২০০১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত পাটমন্ত্রী ও পানিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মেজর হাফিজ বিভিন্ন সময় কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। ২৪-এর গণঅভুত্থানের পর লালমোহন ও তজুমদ্দিনের বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করে তিনি সপ্তমবারের মতো সংসদে পা রেখেছেন। ৮১ বছর বয়সী হাফিজ উদ্দিন আহমদ এখন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ