০২:২১ পি.এম
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র জানিয়েছে, চলতি করবছরে এই মুহূর্তে ২০ লাখের অধিক করদাতা তাদের ই-রিটার্ন জমা দিয়েছেন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এনবিআর এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
তাদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৪ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ২০২৫-২৬ কর বছরের জন্য www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম শুরু করেন। এরপর থেকেই করদাতাদের মধ্যে সুপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে এবং এর ফলে ২০ লাখেরও বেশি ই-রিটার্ন জমা পড়েছে।
আরও পড়ুন: স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি, ভরি কত হলো?
এনবিআরের একটি বিশেষ আদেশ অনুযায়ী, চলতি বছর ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে থাকা বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কাজ করা বিদেশি নাগরিক ছাড়া সকল ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যদিও ২০২৫-২৬ করবছরে বেশ কিছু শ্রেণির করদাতাদের অনলাইনে রিটার্ন দাখিল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, কিন্তু তারা যদি ইচ্ছা করেন তাহলে অনলাইনে ই-রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
অন্যদিকে, যদি ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হয়, তবে কোন করদাতা ১৫ ডিসেম্বরের আগে উপকর কমিশনারের কাছে সুনির্দিষ্ট যুক্তির সঙ্গে আবেদন জানালে অনুমোদনের ভিত্তিতে তিনি পেপার রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
চলতি বছরে, করদাতার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিরা অনলাইনে ই-রিটার্ন জমা দিতে সক্ষম হয়েছেন। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা নেই, তবে তারা প্রয়োজনীয় তথ্য ereturn@etaxnbr.gov.bd মেইলে পাঠালে ওটিপি ও রেজিস্ট্রেশন লিংক পাওয়ার মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।
কোনও কাগজ বা দলিল আপলোড না করেই করদাতারা তাদের আয়-ব্যয়ের এবং সম্পদ ও দায়ের তথ্য ই-রিটার্ন সিস্টেমে ঢুকিয়ে সহজেই ঘরে বসে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসের (যেমন বিকাশ) মাধ্যমে আয়কর পরিশোধ করে ই-রিটার্ন জমা দিতে পারেন। ফলে দেশে এবং বিদেশে বাংলাদেশি করদাতাদের কাছে এই প্রক্রিয়া বেশ জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: রোববার সারা দেশে মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা
ই-রিটার্ন জমা প্রক্রিয়াটি সুবিধাজনক করে তোলার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গত বছর যেমন প্রশিক্ষণ দিয়েছিল, তেমনিভাবে চলতি বছরে করদাতাদের জন্যও প্রশিক্ষণ দেয়। পাশাপাশি, এনবিআর করদাতার আইনগত প্রতিনিধিদেরও ই-রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশিক্ষিত করেছে।
ই-রিটার্ন সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় সহায়তার জন্য এনবিআর একটি কল সেন্টার চালু করেছে। করদাতারা ০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১ নম্বরে ফোন করেও তাৎক্ষণিক সহযোগিতা পান। এছাড়া, www.etaxnbr.gov.bd এর ই-ট্যাক্স সার্ভিস অপশনে সমস্যা লিখিতভাবে জানালে তাদের সমাধানও মেলে।
সারাদেশের কর অঞ্চলে স্থাপিত ই-রিটার্ন হেল্প-ডেস্ক থেকে অফিসের সময়ের মধ্যে ই-রিটার্ন জমা দেয়ার সকল সেবা দেয়া হচ্ছে। করদাতারা উপস্থিত হয়ে অথবা টেলিফোনের মাধ্যমে এই সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সকল ব্যক্তিকে অনুরোধ করেছে যে তারা ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার জন্য ই-রিটার্ন সিস্টেম ব্যবহার করুন।
আরও পড়ুন: শিগগিরই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতি চলছে
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন