০২:৩০ পি.এম
কৃষ্ণসাগর অতিক্রমের সময় ইউক্রেনের ড্রোন হামলা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত রাশিয়ার একটি তেলবাহী ট্যাংকার থেকে চারজন বাংলাদেশি নাবিককে নিরাপদভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। গত শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) তুরস্কের উপকূলে ‘এমটি কায়রোস’ নামক ট্যাংকারে এই হামলা হয়, যেখানে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা ২৫ জন নাবিককে উদ্ধার করেন। উদ্ধারকারী দলের কাছে চীনের ১৯ জন নাবিক এবং মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়ার একজন করে নাবিকও ছিলেন।
উদ্ধারকৃত চার বাংলাদেশি নাবিক হলো- চতুর্থ প্রকৌশলী মাহফুজুল ইসলাম, অয়েলার হাবিবুর রহমান, পাম্প ম্যান আসগর হোসাইন এবং ডেক ক্যাডেট আল আমিন হোসেন। যদিও তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে, তবে ওই ভয়াবহ ঘটনার কারণে হামলার আতঙ্ক এখনও কাটেনি। উদ্ধার হওয়া এক বাংলাদেশি নাবিক জানিয়েছেন, তুরস্কে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে তাদের এখনও যোগাযোগ হয়নি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন একটি গণমাধ্যমে উল্লেখ করেছেন, কৃষ্ণসাগরে একটি জাহাজে মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার ২৫ নাবিকের মধ্যে চারজন বাংলাদেশি ছিলেন। তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং আমরা তাদের নিয়মিত খোঁজ রাখছি।
আরও পড়ুন: শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে: জেলেনস্কি
হামলার লক্ষ্য ছিল গাম্বিয়ার পতাকাবাহী ‘এমটি কায়রোস’ ট্যাংকার, যা রাশিয়ার ক্রুড অয়েল বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কাজে নিয়োজিত ছিল। বাংলাদেশি নাবিকরা জানেন, রাশিয়ার তেলনির্ভর যুদ্ধ-অর্থায়নকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে ইউক্রেন এই হামলা করেছে। রাশিয়া থেকে ক্রুড অয়েল বোঝাই হওয়ার পর জাহাজটির পরবর্তী গন্তব্য ছিল চীন বা ভারত।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়া পুরনো ও মালিকানা-অস্পষ্ট শত শত জাহাজ নিয়ে একটি ছায়া নৌবহর তৈরি করেছে। বীমা ও রেজিস্ট্রেশন নিয়ে এসব ট্যাংকারকে ঘিরে রয়েছে নানা জটিলতা। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত ট্যাংকার দুটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন