০৫:১৫ পি.এম
জাহাজ চলাচলের শুরুতে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া থেকে ১১৭৪ জন পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনে পৌঁছেছে তিনটি জাহাজ।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ৭টার দিকে বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট থেকে জাহাজগুলো রওনা দেয়। পরবর্তীতে এই জাহাজগুলো দুপুর ১টার পর সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে পৌঁছায়।
সেন্টমার্টিন রুটের পর্যটকবাহী জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের’ সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: 'বাকসু' নাম বাতিলের দাবিতে বরিশালে শিক্ষার্থীদের মহাসড়কে প্রতিবাদ
তিনি জানান, ১ তারিখে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমবি বার আউলিয়া ও কেয়ারি সিন্দাবাদ নামের তিনটি জাহাজ সকাল ৭টায় যাত্রা শুরু করে, যেখানে মোট ১১৭৪ জন পর্যটক রয়েছে। বিকেল ৩টার দিকে এই জাহাজগুলো সেন্টমার্টিন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তবে, আজ কোনো পর্যটক ফিরবেন না। তারা সেখানে রাত্রীযাপন করবে। পরবর্তী দিন, মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকালে আবারও পর্যটক নিয়ে জাহাজ সেন্টমার্টিনে ফিরবে।
হোসাইন ইসলাম বাহাদুর আরও বলেন, ‘ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়াস্থ বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে নিয়মিতভাবে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করবে। ঘাটে আরও চারটি জাহাজ প্রস্তুত রয়েছে এবং অনুমতি নিয়ে পর্যায়ক্রমে এদেরও সেন্টমার্টিনে পাঠানো হবে।’
জাহাজের যাত্রার আগে সোমবার সকালে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়াস্থ বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল। যেখানে ১২টি নির্দেশনা নিয়ে মাইকিং করা হয় এবং প্রতিটি স্তরে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি রয়েছে। প্লাস্টিক বা পলিথিন দেখে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং সচেতন করা হচ্ছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেন, প্রথম দিন তিনটি জাহাজ কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনে গেছে। টিকিট সংগ্রহ করতে পর্যটকদেরকে ট্রাভেল পাস নিতে হচ্ছে এবং ২০০০ জনের বেশি যাতে যেতে না পারে তার জন্য রয়েছে কঠোর নজরদারি।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ চীন সাগরে আবারও উত্তেজনা, বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
তিনি জানান, ‘সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের ১২টি নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে জেলা প্রশাসন সর্বদা সজাগ রয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং অন্যান্য দফতর এতে যুক্ত রয়েছে।’
পরিবেশ অধিদফতরের কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন জানান, পর্যটকদের আসা-যাওয়ার সময় জাহাজগুলোকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। দুই হাজারের বেশি পর্যটক যেতে দেওয়া হচ্ছে না। এজন্য আলাদা আলাদা তল্লাশি ব্যবস্থা রয়েছে বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট এবং সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তার ব্যাপারে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। উভয় ঘাট ছাড়াও প্রতিটি জাহাজে ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্যরা থাকছেন।’
প্রথম দিনে নিয়মের বাইরে গিয়েই টিকিট বিক্রির জন্য সেন্টমার্টিনগামী কেয়ারি সিন্দাবাদ কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছে প্রশাসন।
আরও পড়ুন: জাকিরের সেঞ্চুরিতে বরিশালের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিচ্ছে সিলেট
কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াছমিন জানান, ট্রাভেল পাস ছাড়া টিকিট বিক্রির নিয়ম নেই। ৩টি টিকিট বিক্রি করার কারণে তাদের জরিমানা করা হয়েছে।
সেন্টমার্টিন দ্বীপের অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ১২টি নির্দেশনা জারি করেছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরের ৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাস দ্বীপটিতে পর্যটকরা ভ্রমণের সুযোগ পাবেন, তবে দৈনিক সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক যেতে পারবেন। সেইসঙ্গে পর্যটকদের সরকার নির্ধারিত ১২টি নির্দেশনা মানতে হবে।
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নভেম্বরে পর্যটকরা কেবল দিনের বেলায় দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারবেন, রাতযাপন করতে পারবেন না। ডিসেম্বর এবং জানুয়ারিতে রাতযাপন করতে পারবেন।
আরও পড়ুন: ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ: শিক্ষার্থীদের নতুন বার্তা ব্লকেড কর্মসূচি
বিআইডব্লিউটিএ এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া দ্বীপে কোনো নৌযান চলাচলের অনুমতি নেই। পর্যটকদের অবশ্যই বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টাল থেকে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে, যেখানে ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোড থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।
তথ্য অনুযায়ী, আগামী জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সেন্টমার্টিন দ্বীপে যেতে পর্যটকেরা সক্ষম হবেন। এরপর আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মাসের জন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচি এবং পর্যটক সংখ্যা এবার কঠোরভাবে সুশৃঙ্খল থাকবে। ফেব্রুয়ারিতে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাবে। দৈনিক দুই হাজারের বেশি পর্যটক ভ্রমণ করতে পারবেন না।
পর্যটকদের ভ্রমণকালে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহের কারণে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতিসাধন নিষিদ্ধ। সৈকতে মোটরসাইকেল এবং সি-বাইক চলাচলও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
আরও পড়ুন: এএফএমসি থেকে পাস করা ইন্টার্নদের সিএমএইচ ঢাকায় চিকিৎসা সেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ
ভ্রমণের সময় নিষিদ্ধ পলিথিন বহন করা যাবে না এবং একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক পাওয়ার জন্য, যেমন চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, সাবান ও শ্যাম্পুর মিনিপ্যাক ইত্যাদিকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পর্যটকদের নিজেদের পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার উপদেশ দেয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন