০২:১৮ পি.এম
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এই সভা অনুষ্ঠিত হয় শনিবার (২৯ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে, যেখানে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। সভায় বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ধর্ম উপদেষ্টা আফম খালিদ হোসেন।
এদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির সংবাদে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি তার রোগমুক্তির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। আজ দুপুরে রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিবের মাধ্যমে গণমাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাবির সমাবর্তনের বিরুদ্ধে অসন্তোষ, ঢাকায় সাবেক শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত!
গতকাল শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
এক বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টা জানান, তিনি নিয়মিতভাবে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি দেশবাসীর কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় যেন কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে। প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সরকার প্রস্তুত।’
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘গণতান্ত্রিক উত্তরণের এ সময়ে বেগম খালেদা জিয়া জাতির জন্য ভীষণ রকম অনুপ্রেরণা। তার সুস্বাস্থ্য দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি সকলকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সমন্বয়ে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন: শিশির মনিরের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ, তদন্ত শুরু করেছে ডিবি
খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস এবং চোখের সমস্যায় ভুগছেন। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দুই মামলায় তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। দুই বছরের বেশি সময় তিনি কারাবন্দী ছিলেন। করোনাকালে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ তৎকালীন সরকারের নির্বাহী আদেশে তার সাজা স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়। ছয় মাস পরপর তার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়নি।
গত বছরের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর খালেদা জিয়া মুক্তি পান। এরপর চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। চিকিৎসার জন্য ১১৭ দিন লন্ডনে থাকার পর গত ৬ মে দেশে ফিরে আসেন এবং এভারকেয়ার হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ভর্তি হন। সর্বশেষ গত রোববার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনকে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন