বৃহস্পতিবার, ২৭শে নভেম্বর, ২০২৫ ইং
০২:৩০ পি.এম
জুলাই মাসে সংঘটিত গণহত্যার কারণে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সাজা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে আপিল করতে যাচ্ছে প্রসিকিউশন।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
১৭ নভেম্বর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার জন্য আদালত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। তাকে দুটি অপরাধে মৃত্যুদণ্ড এবং আরেকটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ওইদিন বেলা ২টা ৫০ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করে। অন্য বিচারকগণ হলেন: বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলার শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষ বারবার অভিযোগ করেছে যে, শেখ হাসিনা ছিলেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সকল কর্মকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী, হুকুমদাতা এবং সুপিরিয়র কমান্ডার।
এই মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। সাবেক আইজিপি মামুন একমাত্র গ্রেফতার আসামি এবং তিনি মামলায় রাজসাক্ষী হিসেবে তার জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলার বিচারিক প্যানেল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য শেখ হাসিনাকে ফাঁসির আদেশ প্রদান করে। মামলার দুই নম্বর অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, এবং এক নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালেরও ফাঁসির আদেশ রয়েছে, আর রাজসাক্ষী হয়ে সত্য উদঘাটনে সহযোগিতা করায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অসুস্থ করার জন্য তার খাবার ও ওষুধে বিষ মিশিয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি উল্লেখ করেছেন, খালেদা জিয়ার অসুস্থতা একটি পরিকল্পনার অংশ, যা কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে প্রেসক্লাবে ৯০’র ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলনের ৩৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে একটি আলোচনা সভায় এই দাবি করেন তিনি।
রিজভী অভিযোগ করেন, ভূতের মুখে রাম নাম, জাতীয় পার্টি এমন কথা বলছে যে, বর্তমানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। তিনি মনে করেন, জাতীয় পার্টি শেখ হাসিনার পৈশাচিক শাসনের সময় সরকারের সহযোগী ছিল। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের আঁতাত ছিল।
রিজভী আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জের আন্দোলনের সময় এতো দীর্ঘ সময় লাগেনি গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে, যদি না জাতীয় পার্টি তাদের সহযোগী হতো। নব্বইয়ের এরশাদবিরোধী আন্দোলনেও একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল।
তিনি বলেন, এরশাদ এবং হাসিনা একই রাজনৈতিক চরিত্রের। তারা গণতন্ত্রকে ক্ষতি করেছে। এরশাদ ব্যাংক লুট করে আর শেখ হাসিনা এ বিষয়ে চূড়ান্ত রূপ দিয়েছেন।
বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, প্লট বরাদ্দের মামলায় শেখ হাসিনার ২১ বছরের দণ্ড হয়েছে। বর্তমানে সরকারের সময় আদালতে কোনো হস্তক্ষেপ নেই। কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন, একই কায়দায় সবকিছু হচ্ছে, কিন্তু এই সময়ে তো কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় নেই। তাহলে কে এগুলো করছে? হাসিনার প্রতিষ্ঠিত ট্রাইব্যুনালে তার বিচার হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত গুম-খুন এখন নেই। সরকারে রাজনৈতিক কোনো হস্তক্ষেপ নেই। আদালতকে প্রভাবিত করার মতো কিছু ঘটছে না, যা শেখ হাসিনা করেছিলেন। সব সময় নিয়ন্ত্রণ ছিল হাসিনার।
রিজভী অবশেষে বলেন, ব্যাংকের টাকা ফেরত না দেয়া এবং ঋণ নিয়ে খেলাপী হওয়ার সংস্কৃতি হচ্ছে হাসিনোমিকস। কর্মসংস্থান নেই এবং দারিদ্র্যের সীমা বাড়ছে। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জামায়াতে ইসলামী ভূমিকম্প-পরবর্তী ভবন সুরক্ষা স্ক্যান সেবা কার্যকর করেছে।
দলটির প্রকৌশল বিভাগ ও সিভিল স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারদের সহযোগিতায় এই সেবা শুরু হয়েছে। বর্তমানে, সিটি করপোরেশন এবং আশপাশের এলাকায় এই সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) জামায়াতের প্রধান ডা. শফিকুর রহমান তার অফিসিয়াল ফেসবুক পৃষ্ঠায় এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
এই সেবায় জামায়াতে ইসলামী সম্মিলিতভাবে বিভিন্ন সেবা প্রদান করবে, যার মধ্যে রয়েছে ভবনের প্রাথমিক ঝুঁকি মূল্যায়ন, প্রয়োজনে সাইট পরিদর্শন, ক্ষতি এবং সম্ভাব্য বিপদের চিহ্ন নির্ণয়, নিরাপত্তা নির্দেশনা এবং জরুরী করণীয় বিষয়ে পরামর্শ, এবং ভিডিও ডকুমেন্টেশনসহ প্রাথমিক রিপোর্ট, যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের যাচাইকৃত ফাইনাল রিপোর্টও দেওয়া হবে।
স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত ফোন নম্বরে - ০১৩২৭১২১৯৩৫, ০১৩২৭১২৩০৯৯, ০১৩২৭১২১৩০১ - হোয়াটসঅ্যাপে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত যোগাযোগ করার জন্য বলছে।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) জামায়াত আমিরের আরেক পোস্টে তিনি বলেন, ভূমিকম্পের পর আমরা সকলেই একটি উদ্বেগজনক সময় পার করছি। পরিবারের এবং আশপাশের মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করা স্বাভাবিক। এই কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেছেন, এটি শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তিগত সেবা নয়; বরং এটি আমাদের সংগঠনের সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতার বাস্তব প্রয়াস। আমাদের এই উদ্যোগ তখনই সফল হবে যখন আমরা আপনাদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রকৃত সেবা দিতে পারব।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটরিংয়ের জন্য একটি সাইবার সিকিউরিটি মনিটরিং সেল গঠন করা হবে। তার সাথে, চিহ্নিত অপরাধীদের আরও নিবিড় নজরদারিতে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে তিনি এই তথ্য জানান। এসময় ইসি সচিব আরো বলেন, 'নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এটাই আমাদের চূড়ান্ত বৈঠক।' স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দিকনির্দেশনা দেবে এবং ইসি এ বিষয়টি মনিটরিং করবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মনিটরিংয়ের জন্য সাইবার সিকিউরিটি মনিটরিং সেল প্রতিষ্ঠা করা হবে।
তিনি জানালেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তিনটি ভাগে মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে কেন্দ্র ভিত্তিক, মোবাইল টিম এবং সেন্টাল রিজার্ভ ও স্ট্রাইকিং ফোর্স অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সাইবার সিকিউরিটির জন্য এনটিএমসির অ্যাপ ব্যবহৃত হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতগুলো কেন্দ্রে মোবাইল টিম নজরদারি করবে তা তারা নির্ধারণ করবে। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আরও মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে বৈঠকে অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার ও বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দ্বিতীয় ধাপে একযোগে ১৫৮ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বদলি করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এই বদলির জন্য একটি প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়।
এই কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করার জন্য।
অন্যথায়, বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা ৩০ নভেম্বর তারিখে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত হিসেবে গণ্য হবেন।
এছাড়া, বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বদলিকৃত কর্মকর্তার যেসব দপ্তর বা কর্মস্থল ইতোমধ্যে পরিবর্তন হয়েছে, সেক্ষেত্রে তা উল্লেখ করে তাঁকে যোগদানপত্র দাখিল করতে হবে।
সবশেষে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বদলিকৃত কর্মকর্তাদের তালিকা প্রদর্শনের জন্য এখানে ক্লিক করুন।
এর আগে, বুধবার (২৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সরকারের পক্ষ থেকে ১৬৬ উপজেলায় নতুন ইউএনও নিয়োগ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। দুপুরের দিকে ৬৪ জেলার এসপি-ও একযোগে পরিবর্তন করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ