০৬:৪০ পি.এম
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, জামায়াতসহ মোট ৮টি দল রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। তিনি বলেছেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী সম্মিলিত আন্দোলনের মাধ্যমে ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে ৫ দফা দাবির ভিত্তিতে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে গণসমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে।
রংপুর বিভাগের সমাবেশ উপলক্ষে সোমবার বিকেলে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
মাওলানা আব্দুল হালিম উল্লেখ করেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণের আকাঙ্ক্ষা এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। ছাত্র এবং জনতার আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমাদের বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে।
আরও পড়ুন: ডিএমপির ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ৯২৯ মামলা দায়ের
তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের আয়োজনের জন্য ৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
যে ৫ দফা দাবি তিনি উল্লেখ করেছেন তা হলো— জুলাই মাসে জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধানের আলোকে জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে গণভোটের আয়োজন অপরিহার্য। সংসদের উভয়কক্ষে প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (PR) পদ্ধতি চালু কিংবা অন্তত উচ্চ কক্ষে এটি প্রবর্তনের দাবি। অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম, নির্যাতন, গণহত্যা এবং দুর্নীতির বিচার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। স্বৈরাচারের সহায়ক জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমরা সংঘাতের রাজনীতির পক্ষে নই। রংপুরে জাতীয় পার্টি খোলামেলা রাজনীতি করছে, অথচ তারা অতীতে স্বৈরাচারী সরকারকে টিকিয়ে রেখেছে। আওয়ামী লীগের মতো জাতীয় পার্টির কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করার প্রয়োজন ছিল বলে মাওলানা আব্দুল হালিম উল্লেখ করেন। তবে তাঁর দলের পক্ষ থেকে কাউকে ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই।
তিনি আরও বলেন, যে দল হাসিনা সরকারকে ক্ষমতায় রেখেছিল, জনগণের তাদের প্রতি সমর্থন নেই বলেই তাঁর ধারণা। জনগণের রায়ই তাদের নিষিদ্ধ করবে।
আরও পড়ুন: দুবাই ও দোহার কিছু এলাকায় সাধারণ মানুষকে সরানোর নির্দেশ ই-রানের
তিনি জানান, আগামী ৩ ডিসেম্বর রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠেয় বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ৮ দলের শীর্ষ নেতা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম। সভাপতিত্ব করবেন জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
এছাড়া বক্তব্য রাখবেন—জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন্দ, নেজামে ইসলামী পার্টির নায়েবে আমির মুফতি মোখলেছুর রহমান কাসেমী, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, সংগঠক মুফতি মাহমুদুল হাসান, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলামসহ ৮ দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।
আয়োজকরা জানিয়েছে, সমাবেশের সফলতার জন্য ইতোমধ্যে ৮ দল একত্র হয়ে ৫টি প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে এবং লক্ষাধিক মানুষের সমাগমের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাহবুবার রহমান বেলাল, ইসলামী আন্দোলন মহানগরের সভাপতি হাফেজ আব্দুর রহমান কাসেমী, সেক্রেটারি আমিরুজ্জামান পিয়ালসহ ৮ দলের নেতারা।
আরও পড়ুন: আলোচনায় ফিরতে ওয়াশিংটনকে বাধ্য হতে পারে
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন