প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যশোর-১ (শার্শা) আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী মফিকুল হাসান তৃপ্তির মনোনয়ন বাতিলের আহ্বানে কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তারা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের কার্যক্রম চালিয়েছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় শার্শা মিনি স্টেডিয়াম থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে যশোর–বেনাপোল মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে থানা মোড়ে পৌঁছে তারা সড়কে অবস্থান নিলে প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ সৃষ্টি হয়।
যশোর-১ (শার্শা) আসনে বিএনপির সাবেক দফতর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন এবং উপদেষ্টা খাইরুজ্জামান মধু প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে, মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এতে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ এবং হতাশা দেখা দিয়েছে।
তারা অভিযোগ করেছেন যে, স্থানীয় আন্দোলন ও সংগ্রামে যাদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়া হয়েছে এবং কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, তাদের মনোনয়ন না দিয়ে ‘সংস্কারপন্থি’ একজনকে মনোনয়ন দেয়ার কারণে দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারাই আজ বিক্ষোভে শামিল হন। দুপুর ৩টার পর থেকে উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী শার্শা স্টেডিয়াম মাঠে জমায়েত হয়ে যান। কিছু অংশগ্রহণকারী কাফনের কাপড় পরে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। পরে তারা মিছিলে যোগ দেন।
এ সময় তারা "শার্শা বাঁচাও, সংস্কারপন্থি তৃপ্তিকে হটাও, বিএনপি বাঁচাও, মনোনয়ন পরিবর্তন চাই, ত্যাগীদের সম্মান চাই, জনগণের প্রার্থী চাই"—এমন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলে। পরবর্তীতে মিছিলটি যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক অবরোধ করে প্রায় এক ঘণ্টা বিক্ষোভ চলে।
উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল মিন্টু বলেন, "আমাদের কোনো ব্যক্তিগত পছন্দ নেই। তবে গত ১৭ বছরে যারা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখেছেন, তারা মনোনয়নের জন্য আশা করেছিলেন। কিন্তু তাদের কেউ মনোনয়ন না পাওয়ায় নেতাকর্মীরা হতাশ। আমরা চূড়ান্ত তালিকার আগে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবী জানাচ্ছি।"
বিক্ষোভে অংশ নেয়া ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে জানান, তৃপ্তির সংস্কারপন্থি হওয়ায় উপজেলার ৮০ শতাংশ নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তারা এই মনোনয়ন মানতে পারবে না। মনোনয়ন পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালানোর দাবি জানায়।
বিক্ষোভকারীরা জানান, যদি ত্যাগী এবং আন্দোলনে পরীক্ষিত এমন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তাহলে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষে কাজ করবেন। অন্যথায়, তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এই বিক্ষোভ শার্শায় বিএনপির অন্যতম বৃহৎ জনসমাগম হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির বলেন, "কোনো নির্দেশনা ছাড়াই ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা প্রতিবাদে মাঠে নেমেছে। তাদের দাবি সঠিক। তাদের একটাই দাবি যে এই আসনে বিএনপিকে বিজয়ী করতে হলে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে এবং তা করতে হলে সংস্কারপন্থি নেতা মফিকুল হাসান তৃপ্তির মনোনয়ন বাতিল করতে হবে। আমাদের থানার মানুষের যে অনুভূতি, সেটি বাস্তব। আমি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পূর্ণ সমর্থন জানাই। আমার বক্তব্য হলো, আমরা যারা মাঠে ছিলাম, আমাদেরকে মনোনয়ন দেয়ার দাবি সত্যিই তৃণমূলের মানুষের।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন