০৬:৪২ পি.এম
পাবনার রূপপুরে অবস্থিত দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ফিজিক্যাল স্টার্টআপ (জ্বালানি লোডিং) প্রস্তুতির সামগ্রিক অবস্থা মূল্যায়নের লক্ষ্যে, বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা), রাশিয়ার শিল্প ও কর্মক্ষেত্র নিরাপত্তা তদারকি সংক্রান্ত সংস্থা ভিও সেফটি এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা ৭ নভেম্বর থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রকল্প এলাকার বিস্তৃত পরিদর্শন করেছেন।
বায়েরার চেয়ারম্যান মো. মাহমুদুল হাসান বুধবার (২৬ নভেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে যে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লি. (এনপিসিবিএল)-এর মানবসম্পদ এবং ব্যবহৃত বিভিন্ন ইকুইপমেন্ট, প্রকল্পের সিস্টেম ও ফ্যাসিলিটি, পরিচালনা সংক্রান্ত ডকুমেন্ট পরিদর্শন দল পর্যালোচনা করেছে। প্রতিনিধি দলটি কমিশনিং কার্যক্রমের অগ্রগতি, স্থাপনা এবং স্টার্টআপ প্রটোকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে।
আরও পড়ুন: ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ইতিহাসের সেরা নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি: প্রধান উপদেষ্টা
ফিজিক্যাল স্টার্টআপ এবং তদারকির কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এনপিসিবিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান ও সমন্বয় করেন প্রধান পরিদর্শক মো. ইয়ামিন আলী।
ফিজিক্যাল স্টার্টআপ এবং জ্বালানি লোডিং পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই পর্যায়ে প্রথমবারের মতো রিয়্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি লোড করার পরে পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন সিস্টেম পরীক্ষিত হয় এবং সীমিতমাত্রায় রিয়্যাক্টরে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করা হয়।
ড. জাহেদুল হাসান বলেন, এনপিসিবিএল ইতোমধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শন সম্পন্ন করেছে, যার মধ্যে আইএইএ কর্তৃক পরিচালিত প্রি-ওসার্ট মিশন অন্তর্ভুক্ত। সর্বশেষ যৌথ পরিদর্শন বায়েরা, ভিও সেফটি এবং রাশিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘রস্টেকনাদজর’ দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়াও এনপিসিবিএল এবং রসএনার্গোএটম নিয়মিতভাবে স্বমূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং সেফগার্ডের দিকটিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বায়েরা রূপপুর প্রকল্পের ফিজিক্যাল স্টার্টআপ প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছে। এ সময়ে এনপিসিবিএল-এর মন্তব্য ও সুপারিশের চর্চা করে কার্যকর সমাধানের পরিকল্পনা চলছে।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ চীন সাগরে আবারও উত্তেজনা, বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
বিশেষজ্ঞরা পরিদর্শনের পর প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ড. জাহেদুল হাসান উল্লেখ করেন, 'প্রতিনিধি দল কিছু সুপারিশ করেছে যাতে রূপপুর প্রকল্পের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা আরও উন্নত করা যায়।' তাৎক্ষণিকভাবে এনপিসিবিএল এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে কাজ করছে। এই কার্যক্রম শেষ হলে শিগগিরই বায়েরার কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। বায়েরা প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে সন্তুষ্ট হলে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ এবং জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমোদন প্রদান করবে।
বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, 'সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ রেডিনেস ইন্সপেকশন সম্পন্ন হয়েছে।' তিনি আরো বলেন, স্টার্টআপ বা ফুয়েল লোডিংয়ের ক্ষেত্রে রাশিয়ার রেগুলেটরি অথরিটি এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার সুপারিশ প্রয়োজন। সুপারিশ পাওয়া গেলে বায়েরা ফুয়েল লোডিংয়ের অনুমতি দেবে।
রূপপুর প্রকল্পে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য জেনারেল ডিজাইনার (রোসাটম) এবং ভিও সেফটির এসেসমেন্ট প্রতিবেদনও প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: জাকিরের সেঞ্চুরিতে বরিশালের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিচ্ছে সিলেট
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন