প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন:- ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- talashbd2024@gmail.com
কক্সবাজারের মহেশখালীর গহীন পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র তৈরির আস্তানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এই অভিযানের সময় কুখ্যাত ‘মিন্টু বাহিনীর’ নেতা ইমাম হোসেন মিন্টুকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যাচ্ছে যে, মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী সংলগ্ন গহীন পাহাড়ের একটি সশস্ত্র চক্র গোপনে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে তা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সময়ে চক্রটি অবৈধ অস্ত্র বেচাকেনা, জলদস্যুতা, পর্যটকদের ওপর হামলা, ডাকাতি ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল।
এই তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন শাহপরী, টেকনাফ, বাহারছড়া, ইনানী, কক্সবাজার ও মহেশখালীর সমন্বয়ে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে মিন্টু বাহিনীর আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে ইমাম হোসেন মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের সময় পাঁচটি দেশীয় একনলা বন্দুক, নয়টি দেশীয় পিস্তল, একটি বিদেশি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড তাজা গুলি, ১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, চার রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি দেশীয় অস্ত্র, তিন লিটার দেশীয় মদ এবং আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ইমাম হোসেন মিন্টু মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘মিন্টু বাহিনী’ নামে একটি সন্ত্রাসী চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।
তার বিরুদ্ধে মোট ১৫টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে।
কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, মিন্টুকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্কে আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে। এই অস্ত্র ব্যবহার করে মহেশখালীসহ দেশের পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে ও লবণচাষীদের ভয়ভীতি দেখানো হতো। বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরো বৃদ্ধি করা হয়েছে।
জব্দ করা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য আলামত এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন