ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই আশ্বিন, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৪ই রবিউস সানি, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ইং ০২ই আশ্বিন, ১৪৩৩বাং

জুলাই বিপ্লবে শহীদদের আত্মত্যাগেই রচিত হয়েছে দেশের রাজনীতির নতুন ধারা : ভূমি প্রতিমন্ত্রী


জুলাই বিপ্লবে শহীদদের আত্মত্যাগেই রচিত হয়েছে দেশের রাজনীতির নতুন ধারা : ভূমি প্রতিমন্ত্রী

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, সরকার জুলাই বিপ্লবে শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই দেশের রাজনীতির নতুন ধারা রচনা করেছে।

তিনি চট্টগ্রামের কাজির দেউড়ি ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে বৃহস্পতিবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে এ বক্তব্য প্রদান করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে আত্মত্যাগের কারণে জুলাই ২০২৪-এ নতুন ঘটনা সূচনা হয়েছে, তার অন্যতম লেখক হচ্ছেন চট্টগ্রামের সন্তান শহীদ ওয়াসিম আকরাম। শহীদ ওয়াসিম সাহসী যোদ্ধা হিসেবে আবির্ভূত হয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেন এবং শহীদ হন।

আরও পড়ুন: গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: এলজিআরডি মন্ত্রী

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব দেশের ছাত্র-জনতা ও শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ এক সম্মিলিত সংগ্রামের প্রতিনিধিত্ব করে, এ সম্পর্কে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেউ সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, কেউ সমর্থন প্রদান করেছেন, কেউবা সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ জুলাই যোদ্ধাদের খাদ্য ও অর্থ সহযোগিতা করেছেন।

মোট কথা, প্রত্যেক দেশের মানুষ এই যুদ্ধে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।

তিনি আরো বলেন, আজকের আলোচনা সভা শোকের নয় বরং এটা শক্তি সঞ্চয়ের সভা। জুলাইয়ের শক্তির ফলে জনগণের ভোটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচিত হয়েছেন এবং একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।

নির্বাচনি ইশতেহার অনুসারে, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প ও মানবিক সহায়তামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: বেতন, কর্মঘণ্টা ও ছুটি বেসরকারি চাকরিজীবীদের ‘সার্ভিস রুলস’ কতদূর?

তিনি আরো বলেন, ৬০টির বেশি নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমেছে এবং স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন ব্যয়বহুল পণ্যের দামও কমেছে। দেশের জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে তাহলে বাংলাদেশ একটি মানবিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হতে বেশি সময় লাগবে না।

সভাপতির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, শহীদ ওয়াসিমসহ যেসকল জুলাই যোদ্ধা জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, তাঁদের ইতিহাস অবশ্যই সংরক্ষণ করা হবে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় প্রকৃত শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের নির্ভুল তালিকা তৈরির কাজ করছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাও সেপ্টেম্বরে বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাদেকপুরে ৩৪৫ শিক্ষার্থী নিয়ে অনুষ্ঠিত ‘মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা ২০২৬’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহিন আলম। ভৈরব, প্রতিনিধি

শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৩৯ পি.এম


সাদেকপুরে ৩৪৫ শিক্ষার্থী নিয়ে অনুষ্ঠিত ‘মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা ২০২৬’

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নে শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা ২০২৬’। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ, সাদেকপুর ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় ইউনিয়নের ৩টি মাধ্যমিক ও ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৪৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাদেকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ প্রতিযোগিতার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শ্রেণিভিত্তিকভাবে লিখিত ও বহুনির্বাচনী (MCQ) পদ্ধতিতে মোট ৫০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শ্রেণির নির্ধারিত পাঠ্যসূচি ও বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেয়।
পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের উপদেষ্টা, সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকরা পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন যুব রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ভৈরব উপজেলা টিমের সদস্যরা।
পরীক্ষাকেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নাজমুল হক। তাঁর তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা পরিচালনা ও কেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
আয়োজনের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও পরিচালনায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ, সাদেকপুর ইউনিয়নের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। প্রতিযোগিতার বাস্তবায়ন ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন আহ্বায়ক তৌফিকুল ইসলাম তনয়।
সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, “এই আয়োজনের মাধ্যমে সাদেকপুরের শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে চাই। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের জন্য এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”
আহ্বায়ক তৌফিকুল ইসলাম তনয় বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রতিযোগিতা নয়; সাদেকপুরের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা। ৩৪৫ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ আমাদের আরও অনুপ্রাণিত করেছে।”
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা খুঁজে বের করা, তাদের উৎসাহিত করা এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি সাদেকপুর ইউনিয়নের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারে রূপান্তরই লক্ষ্য: বিমানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪১ পি.এম


২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারে রূপান্তরই লক্ষ্য: বিমানমন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, দেশের এভিয়েশন খাতকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমিতে রূপান্তর করা। এই অগ্রগতি অর্জনে এভিয়েশন খাতের ভূমিকা একেবারে পরিষ্কার এবং অনস্বীকার্য।

শনিবার বিকেলে ঢাকার ইউনাইটেড কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত জাতীয় দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত এভিয়েশন বিষয়ক পলিসি কনক্লেভে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেছেন।

বিমানমন্ত্রী বলেন, আমাদের বিমানবন্দরগুলো মূলত আমাদের প্রবেশদ্বার এবং রাষ্ট্রীয় আয়নার মতো। সুতরাং, এই আয়নাকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে আমরা দুর্দান্তভাবে এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছি।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু আজকের অনুষ্ঠান পলিসি নিয়ে, তাই আপনাদের জানাচ্ছি যে, প্রায় ৪২ বছর পর আমরা সিভিল এভিয়েশন রুলস-১৯৮৪ সংশোধন করে নতুন রুলস-২০২৬ প্রণয়ন করছি। আমাদের নতুন বিধিমালা অবশ্যই ব্যবসা ও বেসরকারি বিনিয়োগবান্ধব করেই তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং বেসামরিক বিমান চলাচলে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিধিমালায় প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করা হবে।

এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, আপনারাই আমাদের মূল অংশীজন। তাই বিনিয়োগ সহজীকরণের জন্য বিধিমালা তৈরিতে আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বেসরকারি এয়ারলাইন্সের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে বিমান রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধার বিধানে সংশোধন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া বিমানের জটিল যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ওভারহলের ক্ষেত্রে জটিলতা নিরসনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ক্ষমতায় আসার পর আমরা একটি ভঙ্গুর ও বিশৃঙ্খল এভিয়েশন খাত পেয়েছি। চারদিকে যাত্রী হয়রানির অভিজ্ঞতা ছিল। আমাদের সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হল এই হয়রানি লাঘব করা। সেবার মানোন্নয়নে বিমান বাংলাদেশ এয়রালাইন্সের সঙ্গে দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নিয়োগের কাজ হাতে নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার্থে আমরা একটি আন্তর্জাতিক মানের Maintenance, Repair and Overhaul (MRO) unit স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছি। এছাড়া বেসরকারি উদ্যোগে বেসামরিক বিমানবন্দর স্থাপন ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া সহজীকরণ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এভিয়েশন হাব তৈরির লক্ষ্য পূরণ হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে এআই, রোবোটিক্স ও কারিগরি শিক্ষা: মাহ্দী আমিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪৫ পি.এম


৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে এআই, রোবোটিক্স ও কারিগরি শিক্ষা: মাহ্দী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেছেন, সরকার দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে, যাতে বিশ্বমানের দক্ষ মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, মেশিন লার্নিং ও সাইবার সিকিউরিটির মতো আধুনিক বিষয়গুলোকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।’

আজ রাজধানীর নভোথিয়েটারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত 'বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬'-এর প্লেনারি সেশনে অংশ নিয়ে তিনি এসব বক্তব্য তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর ও দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক কাঠামোর সঙ্গে তাল মেলাতে দেশের স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) শিক্ষাব্যবস্থাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কেবল মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়েই নয়, উচ্চশিক্ষা বা টারশিয়ারি লেভেলেও স্টেম শিক্ষাকে সমানভাবে প্রাধান্য দিতে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।’

কারিকুলাম সংস্কারের বিশদ রূপরেখা তুলে ধরে মাহ্দী আমিন জানান, তাত্ত্বিক শিক্ষার সীমাবদ্ধতা দূর করে পুঁথিগত বিদ্যা ও বাস্তব প্রয়োগের দূরত্ব কমাতে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় সংস্কার চলছে।

তিনি বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণিতে প্রাথমিক পর্যায়ে ‘স্পোর্টস’ ও ‘কালচার’ নামে দুটি নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে। অন্যদিকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শিক্ষা, যা শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের প্রয়োজনীয় ইন্টারপার্সোনাল ও ট্রান্সফারেবল দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করবে।

উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমানে কারিগরি শিক্ষা সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তবে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত দেশের সব প্রান্তের ও সকল স্তরের স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি শিক্ষা সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক হবে। উন্নত দেশের মতো কারিগরি শিক্ষাকে কোনো ‘ট্যাবু’ না ভেবে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে একীভূত করাই সরকারের উদ্দেশ্য।’

উচ্চশিক্ষাকে বাস্তব জীবনের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর জোর দিয়ে মাহ্দী আমিন জানান, দেশে প্রায় আড়াই হাজার অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে কীভাবে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে কারিকুলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, মানসম্মত গবেষণা থেকে উদ্ভাবন, উদ্ভাবন থেকে নতুন স্টার্ট-আপ এবং সেখান থেকে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে একটি টেকসই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান ত্বরান্বিত করতে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি করে 'সেন্টার অব এক্সিলেন্স' বা উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশি তরুণদের আন্তর্জাতিক মানের মেধার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশি তরুণরা সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। তরুণদের উপযুক্ত রসদ ও প্ল্যাটর্ফম দিতে পারলে তারা বিশ্ব জয় করতে সক্ষম। সরকার ‘ব্রেন ড্রেন’ রুখে দিয়ে তা ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ রূপান্তর করতে চায়।

এ ক্ষেত্রে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশীয় অ্যালামনাইদের এনডাউমেন্ট ফান্ড, সিএসআর ফান্ড ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শক্তিশালী ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত দেশীয় বিশেষজ্ঞদের বিশেষ ফেলোশিপের মাধ্যমে দেশের কারিকুলাম ও শিল্প বিকাশে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

'স্টেম ফর অ্যা ফিচার-রেডি বাংলাদেশ : বিল্ডিং দ্য ব্যাকবোন অব দ্য ইনোভেটিভ ইকোনোমি' শীর্ষক এই সেমিনারের সঞ্চালনা করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। আলোচনায় আরো অংশ নেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, ইউনেস্কো ঢাকা অফিসের শিক্ষা প্রধান এস কিয়াং কো, দেশের শীর্ষ টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তানভীর মোহাম্মদ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি-আইইউবি’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম. তামিম প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপানের ভিসা না পেয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত সামনে এনেছিলেন ম্যারাডোনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ পি.এম


জাপানের ভিসা না পেয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত সামনে এনেছিলেন ম্যারাডোনা

২০০২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ। এশিয়া মহাদেশে প্রথমবারের মতো এই ফুটবল মহাযজ্ঞ যৌথভাবে আয়োজন করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান।

সেই বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ দেখতে চেয়েছিলেন ফুটবল নক্ষত্র ডিয়েগো ম্যারাডোনা। কিন্তু শুরুতেই বাধা হয়ে দাঁড়ায় জাপানের ভিসা আইন। তার মাদক সেবনের পুরনো রেকর্ড থাকার কারণে জাপান সরকার ম্যারাডোনার ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।

১৯৯১ সালে কোকেন সেবনের দায়ে তিনি আইনি জটিলতায় পড়েছিলেন।

জাপানের প্রচলিত আইনে বিদেশিদের জন্য মাদকসংক্রান্ত অপরাধের রেকর্ড থাকলে সেই দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। ফলে জাপানে যাওয়ার আবেদন করেও, আর্জেন্টিনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক ম্যারাডোনা শুরুতে অনুমতি পাননি।

ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার খবর পেয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ম্যারাডোনার যুক্তি ছিল, “আমি কাউকে হত্যা করিনি, জাপানের আইনকেও অসম্মান করেনি।তাহলে তাকে কেন আটকে দেওয়া হলো?

নিজের অবস্থান বোঝাতে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার প্রসঙ্গ টেনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা করেন। প্রয়াত এই কিংবদন্তি মতামত ব্যক্ত করেন, ‘আমি কাউকে হত্যা করিনি এবং জাপানের আইনকে সম্মান করি। আমি জাপানে কোনো পারমাণবিক বোমা ফেলিনি। এটা ভীষণ বৈপরীত্যের বিষয়। যদি জাপানিরা নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে চায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়দেরও জাপানে ঢুকতে দেওয়া উচিত নয়।’

ম্যারাডোনার এই মন্তব্যের পেছনে ছিল ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা হামলার ইতিহাস। এতে দেড় লাখ থেকে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ প্রাণ হারান। তার সেই বক্তব্য ছিল প্রকৃতপক্ষে জাপানের সিদ্ধান্তের প্রতি ক্ষোভ ও বৈষম্যের অভিযোগ।

আর্জেন্টিনার পর্যটন ও ক্রীড়া দূত হিসেবে জাপানে এসেছিলেন ম্যারাডোনা। 

কিন্তু, শেষ পর্যন্ত জাপানের অবস্থান পরিবর্তন হয়। আর্জেন্টিনা সরকারের অনুরোধের পর তাকে জাপানে প্রবেশের বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়। ম্যারাডোনাকে আর্জেন্টিনার পর্যটন ও ক্রীড়া দূত হিসেবে জাপানে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১১ জুন ভিসা অনুমোদনের পর ২৮ জুন তিনি টোকিও শহরে পৌঁছান।

জাপানে গিয়ে ম্যারাডোনা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচও দেখেন। ইয়োকোহামায় জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে ব্রাজিল রেকর্ড পঞ্চমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়।

যদিও, জাপানের সঙ্গে ম্যারাডোনার সম্পর্ক এতোদিন সুখকর ছিল না। ৯০-এর দশকে জাপানের শীর্ষ ফুটবল লিগ (জে১ লিগ) শুরুর আগে নাগোইয়া গ্রাম্পাসের সঙ্গে তিনি চুক্তির খুব কাছাকাছি ছিলেন।

কিন্তু, কোকেন টেস্টে পজিটিভ হয়ে ম্যারাডোনা ১৫ মাসের জন্য সব ধরনের ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ হয়ে যান এবং সেই কারণে সেই চুক্তি থেকে সরে আসে গাড়ি প্রস্তুতকারক বিখ্যাত কোম্পানি টয়োটার মালিকানাধীন ক্লাব নাগোইয়া গ্রাম্পাস। বিকল্প হিসেবে তারা ইংলিশ কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকারকে দলে ভেড়ায়।

মাদকসংক্রান্ত অতীতের কারণে ১৯৯৪ সালেও জাপান তাকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর প্রতিবাদে জানায় আর্জেন্টিনা দল নির্ধারিত প্রস্তুতি ম্যাচ বাতিল করে।

আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক দলের হয়ে ম্যারাডোনা প্রথম ট্রফি জিতেছিলেন জাপানের মাটিতে। 

তবে জাপানে ম্যারাডোনার সুখস্মৃতি ও আছে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে প্রথম ট্রফিটি তিনি অর্জন করেছিলেন সেই দেশেই!

এখন যেটিকে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ বলা হয়, ১৯৭৯ সালে সেই টুর্নামেন্টের নাম ছিল ফিফা বিশ্ব যুব চ্যাম্পিয়নশিপ। জাপানে অনুষ্ঠিত ওই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা।

ফাইনালে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জয় পেয়ে শেষ গোলটি করেছিলেন ম্যারাডোনা। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও উঠেছিল তার হাতে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৩০শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:২৮
জোহর ১১:৫৫
আসর ০৪:২০
মাগরিব ০৬:০৪
ইশা ০৭:১৬
সূর্যোদয় : ০৫:৪৪ সূর্যাস্ত : ০৬:০৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%