নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০৯:৩৩ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, জাতিসংঘ স্বীকৃত ‘গণহত্যার’ বিচার করা হবে এবং দেশে ফিরে শেখ হাসিনার ফাঁসি কার্যকর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি এ সময় উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে আর কোনো দিনও ফ্যাসিবাদের প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগরীর কাজির দেউরি চটেশ্বরী রোডে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব বক্তব্য প্রদান করেন।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠবে এবং অন্য কোনো দেশের ‘সেবাদাসে’ পরিণত হবে না। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ যেমন পাকিস্তানের শাসনের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছিল, তেমনি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ছিল বাংলাদেশকে ভারতের ‘সেবাদাসে’ পরিণত করার বিরুদ্ধে মানুষের বিরোধ।
আলোচনায় তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসবেন— এমন প্রচারণা চলছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সহযোগীরা দেশের ভেতরে বিভিন্নভাবে সক্রিয় হয়ে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে রাজনীতিতে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে।
ইশরাক পরিষ্কার ভাষায় বলেন, ‘বাংলাদেশে আর কোনো দিনও ফ্যাসিবাদের প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই।’ অতীতেও শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় তারা ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনি হাসিনার ফাঁসি চাই’ স্লোগান দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট কারামুক্ত হয়ে রাজপথে ফিরলে সেই একই ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে জাতিসংঘ স্বীকৃত ‘গণহত্যার’ বিচার করা হবে এবং সেই বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি কার্যকর হওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, গেজেটভুক্ত ৮৪৩ জন শহীদের পাশাপাশি অনেকেই এখনো তালিকাভুক্ত হননি। তথ্যের অভাব বা অন্য যেকোনো কারণে বাদ পড়া ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করার কাজ করবে সরকার।
তিনি জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি নির্ভুল শহীদের তালিকা তৈরি করা হবে। শহীদদের জীবনবৃত্তান্ত, আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের ভূমিকা এবং যেসব তথ্যচিত্র পাওয়া যাবে, সেগুলো সংরক্ষণ করবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
আলোচনা সভায় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, হাসিনার ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে জুলাই গণআন্দোলনে। জুলাই নিয়ে কোনো ছল-চাতুরী করার প্রয়োজন নেই। অনেকেই বলেন, রাজপথে নামবেন। রাজপথের ভয় আমাদের দেখাবেন না। দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি থেকে বিরত থাকতে হবে।
আলোচকরা ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জুলাই চেতনাকে ধারণ করে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান তিনি জানিয়েছেন।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, সাঈদ আল নোমান, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরসহ অন্যান্য অতিথিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার গার্মেন্টস শিল্পের জন্য ব্যাংক ঋণের সুদ কমানোর চেষ্টা করছে। এখনও প্রাইভেট সেক্টরকে অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
শুক্রবার রাজধানীর নিকুঞ্জে পোশাক খাত সংশ্লিষ্ট সংগঠন-বাগমার আয়োজিত কর্মশালায় তিনি এ বিষয়ে আলোকপাত করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, গত কয়েক বছরে আমাদের বিপুল সম্পদ পাচার হওয়ার ফলে অর্থনীতি বর্তমানে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে টেনে তোলার কাজটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং জটিল।
এ সময় তিনি রাজনৈতিক কাঠামোকে গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্যও আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, এই জুলাই মাসে একটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করতে পেরেছি। আমাদের ছাত্ররা প্রাণের বলিদান দিয়ে সেই সুযোগ তৈরি করেছে। তাই আমাদের এই সুযোগটি যেন হারিয়ে না যায় এবং আমাদের সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হয়।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আমরা যেন জুলাই মাসের ভিত্তিতে রাষ্ট্র কাঠামোর সঠিক গণতান্ত্রিক উন্নয়ন করতে সক্ষম হতে পারি। এক্ষেত্রে আমাদের রাজনৈতিক কাঠামোকেও গণতান্ত্রিক পদ্ধতির দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, কখনো মাঝারি। এর মধ্যে কুমিল্লায় চার শতাধিক রোগীকে বিনামূল্য চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার(১৭ জুলাই) বুড়িচং উপজেলার শিকারপুরের নূরে মোহাম্মদীয়া মাদ্রাসায় এ চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানসম্মত চক্ষু চিকিৎসাসেবা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে, বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং ভিশন কেয়ার ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এ সময় চিকিৎসা সেবা দেয়ার পাশাপাশি ৩৬ জনকে ছানি অপারেশনের জন্য বাছাই করা হয়। তাদের সকলকে বিনামূল্যে সেবা প্রদান করা হবে। এর সাথে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে রোগীদের মাঝে ওষুধও সরবরাহ করা হয়।
চিকিৎসা ক্যাম্পটি পরিচালনা করেন বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসক, অপটোমেট্রিস্ট, নার্স এবং প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে গঠিত একটি মেডিকেল টিম। চিকিৎসক দলে ছিলেন সাতজন সদস্য। শিকারপুর মাদ্রাসার স্বেচ্ছাসেবকরা এতে তাদের দায়িত্ব পালন করেন।
চিকিৎসক দলের প্রধান বসুন্ধরা আই হসপিটালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ আহনাফ শাহরিয়ার জানান, চক্ষু পরীক্ষার পর ৩৬ জন রোগীকে ছানি, টেরিজিয়াম, নেত্রনালির সমস্যা ও অন্যান্য জটিল চক্ষুরোগের অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। নির্বাচিত রোগীদের পরবর্তীতে ঢাকায় অবস্থিত বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে নিয়ে গিয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অস্ত্রোপচার, ওষুধ, থাকা-খাওয়া এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হবে।
উপজেলার দত্তপুর গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ৮০ বছর বয়সী হাজেরা আক্তার বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরে চোখে ব্যথা করে। বাম চোখে কিছুই দেখি না। আজ ডাক্তার স্যারেরা খুব সুন্দর করে দেখছেন। ওষুধও দিয়েছেন। টাকা নেয়নি।
ভারেল্লা গ্রাম থেকে আসা আরেক রোগী আনু মিয়া জানান, তিনি গত পাঁচ বছর আগে স্ট্রোক করেছেন। এখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার খবর পেয়েছেন। চোখে ব্যথা হয়। পানি পড়ে। আজকের ডাক্তার দেখাচ্ছেন। তিনি ওষুধ এবং চশমা পেয়েছেন।
শিকারপুর গ্রামের আবদুর রহিম বলেন, আমার ছানি ধরা পড়েছে। তারা বলেছেন, আমাকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে অপারেশন করাবেন। আমি বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষের জন্য দোয়া করি।
চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজকরা জানিয়েছে, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের মানবিক দিকনির্দেশনা এবং ভিশন কেয়ার ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে, দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে হাজারো মানুষ দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন এবং মানসম্মত চক্ষু চিকিৎসাসেবা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সার্ভার হ্যাক করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মদ ও সিগারেট খালাসের চেষ্টা করার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শেখ সেজান নামে আরও এক আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত বুধবার(১৫ জানুয়ারি) নেপালে পালিয়ে যাওয়ার সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে তাকে তদন্তকারী সংস্থা সিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের সদস্যরা গ্রেফতার করেন।
যাহোক, শুক্রবার(১৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সিএমপি’র পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে গ্রেফতারের বিষয়টি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানিয়েছেন, চক্রের সদস্যরা চীন থেকে বন্ড সুবিধায় ভুয়া ঘোষণা দিয়ে এক কনটেইনারে ১১ হাজার ৬৭৬ লিটার বিদেশি মদ এবং অন্য একটি কনটেইনারে ৫০ লাখ শলাকা বিদেশি সিগারেট আমদানি করার চেষ্টা করে। তারা ক্রটি জাল ঋণপত্র (এলসি) তৈরি করে, এবং চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম হ্যাক করে কন্টেইনার খালাসের চেষ্টা করে। এতে সরকারের অন্তত ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শেখ সেজান কাস্টমস ও বন্দরের সার্ভারে অবৈধ অনুপ্রবেশ, অন্যের ব্যবহারকারী পরিচিতি ব্যবহার, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন এবং প্রতারণামূলক কাস্টমস কার্যক্রমে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, তদন্তে পাওয়া ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণে দেখা যায়- ২০২৪ সালের ২০ মে একটি মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে কাস্টমসের এক কর্মকর্তার ব্যবহারকারী পরিচিতিতে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করা হয়। পরে একই পরিচিতি ব্যবহার করে বিদেশি সিগারেট আমদানির ঋণপত্র নিবন্ধন ও চালুর কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
পুলিশ জানায়, শেখ সেজানের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন জনসেবামূলক ওয়েবসাইটের নকল সংস্করণ তৈরি, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ, টিকা সনদসহ বিভিন্ন সরকারি ডিজিটাল সেবা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় সাইবার অপরাধ ও প্রতারণার সাতটি মামলা রয়েছে।
এর আগে এই ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলায় সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান হাফেজ ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান খালেদ হোসেন মামুন, পরিচালক বাকির হোসেন, প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী খোরশেদ আলম রিপন ও মিজান এবং চক্রের সদস্য আশরাফ হোসেন রাজু, খায়েজ আহমেদ ওরফে আরিফ এবং বড় রাজুসহ মোট সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ