০৯:৩৭ পি.এম
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, জাতিসংঘ স্বীকৃত ‘গণহত্যার’ বিচার করা হবে এবং দেশে ফিরে শেখ হাসিনার ফাঁসি কার্যকর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি এ সময় উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে আর কোনো দিনও ফ্যাসিবাদের প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগরীর কাজির দেউরি চটেশ্বরী রোডে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব বক্তব্য প্রদান করেন।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠবে এবং অন্য কোনো দেশের ‘সেবাদাসে’ পরিণত হবে না। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ যেমন পাকিস্তানের শাসনের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছিল, তেমনি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ছিল বাংলাদেশকে ভারতের ‘সেবাদাসে’ পরিণত করার বিরুদ্ধে মানুষের বিরোধ।
আরও পড়ুন: কৃষি ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাকৃবিতে আন্তর্জাতিক প্রকল্পের উদ্বোধন
আলোচনায় তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসবেন— এমন প্রচারণা চলছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সহযোগীরা দেশের ভেতরে বিভিন্নভাবে সক্রিয় হয়ে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে রাজনীতিতে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে।
ইশরাক পরিষ্কার ভাষায় বলেন, ‘বাংলাদেশে আর কোনো দিনও ফ্যাসিবাদের প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই।’ অতীতেও শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় তারা ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনি হাসিনার ফাঁসি চাই’ স্লোগান দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট কারামুক্ত হয়ে রাজপথে ফিরলে সেই একই ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে জাতিসংঘ স্বীকৃত ‘গণহত্যার’ বিচার করা হবে এবং সেই বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি কার্যকর হওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, গেজেটভুক্ত ৮৪৩ জন শহীদের পাশাপাশি অনেকেই এখনো তালিকাভুক্ত হননি। তথ্যের অভাব বা অন্য যেকোনো কারণে বাদ পড়া ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করার কাজ করবে সরকার।
আরও পড়ুন: ঢাকার বড় চ্যালেঞ্জ যানজট ও রাস্তায় হকারের অব্যবস্থাপনা: ডিএসসিসি প্রশাসক
তিনি জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি নির্ভুল শহীদের তালিকা তৈরি করা হবে। শহীদদের জীবনবৃত্তান্ত, আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের ভূমিকা এবং যেসব তথ্যচিত্র পাওয়া যাবে, সেগুলো সংরক্ষণ করবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
আলোচনা সভায় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, হাসিনার ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে জুলাই গণআন্দোলনে। জুলাই নিয়ে কোনো ছল-চাতুরী করার প্রয়োজন নেই। অনেকেই বলেন, রাজপথে নামবেন। রাজপথের ভয় আমাদের দেখাবেন না। দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি থেকে বিরত থাকতে হবে।
আলোচকরা ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জুলাই চেতনাকে ধারণ করে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান তিনি জানিয়েছেন।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, সাঈদ আল নোমান, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরসহ অন্যান্য অতিথিরা।
আরও পড়ুন: ব্রিকস দেশগুলোর জন্য ‘ওপেন-সোর্স এআই জোন’ গঠনের প্রস্তাব সি চিন পিংয়ের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন