০৭:২৯ পি.এম
কৃষক কার্ডটি কোনো বিশেষ শ্রেণির জন্য নয়, বরং এটি দেশের প্রতিটি প্রকৃত কৃষকের অধিকার বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, ‘কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে।’ কৃষক কার্ডের বিষয়ে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কাউকে ভুল তথ্য দেবেন না। ভুল তথ্য দিলে কৃষক কার্ডের সুবিধা হারানোর সাথে সাথে আইনি জটিলতায়ও পড়তে পারেন।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের কালি মহাজন বাড়িতে দেশব্যাপী কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনকালে তিনি এসব বিষয়ে কথা বলেন। মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকার কৃষিকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও লাভজনক খাতে রূপান্তর করতে কাজ করছে। কৃষকের সঠিক তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হলে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সব ধরনের সরকারি সহায়তা, ভর্তুকি, প্রণোদনা ও জরুরি সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হবে। সেজন্য তথ্য সংগ্রহে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের একটি জাতীয় ডাটাবেজ গড়ে তোলা হচ্ছে। যাতে কৃষকের পরিচয়, জমির পরিমাণ, উৎপাদনের ধরন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ভবিষ্যতে কৃষি নীতি প্রণয়ন ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনায় এই তথ্যভাণ্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
আরও পড়ুন: কৃষি ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাকৃবিতে আন্তর্জাতিক প্রকল্পের উদ্বোধন
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই কৃষক উৎপাদন করে ন্যায্য মূল্য পান। কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, কৃষি বাঁচলে দেশের অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হবে। কৃষক কার্ডে ভুল তথ্য দিলে সুবিধা হারাতে হবে কৃষকদের। আমাদের তিন বছরের এ প্রকল্পের আওতায় চলতি বছর আমরা ৪৩ লাখ কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করব।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুর রহিম, চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক আপ্রু মারমা, পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ইলিয়াছ, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তপন কুমার রায়, পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হকসহ অন্যান্যরা।
সরেজমিনে মন্ত্রী তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য নির্দেশ দেন। তিনি কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা, উৎপাদন ব্যয়, বাজার ব্যবস্থা ও সরকারি সেবা প্রাপ্তির বিষয়েও খোঁজখবর নেন।
আরও পড়ুন: ঢাকার বড় চ্যালেঞ্জ যানজট ও রাস্তায় হকারের অব্যবস্থাপনা: ডিএসসিসি প্রশাসক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন