০৬:৪১ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচন নিরাপত্তাবিষয়ক প্রাইম-টাইম ভাষণ দেশের প্রধান টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এবিসি, এনবিসি এবং সিএনএন তাদের মূল সম্প্রচার চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করেনি। এ ঘটনায় ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন যে এসব গণমাধ্যম তার বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রে’ লিপ্ত এবং তাদের সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করা উচিত।
ট্রাম্প বলেন, ‘এনবিসি ও এবিসি—উভয় ভুয়া সংবাদমাধ্যমই ঘোষণা দিয়েছে যে তারা এই ভাষণ সম্প্রচার করবে না। এ ধরনের প্রতারণার শাস্তি হওয়া উচিত তাদের লাইসেন্স বাতিল।’
গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী (ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট) অনুযায়ী সম্প্রচারমাধ্যমগুলো তাদের কী প্রচার করবে সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। তবে জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকলে অতীতে এ ধরনের প্রেসিডেন্টের ভাষণের সরাসরি সম্প্রচার সাধারণত হয়ে থাকে।
আরও পড়ুন: কৃষি ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাকৃবিতে আন্তর্জাতিক প্রকল্পের উদ্বোধন
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে এবিসি নিউজের এক মুখপাত্র জানান, ট্রাম্পের ভাষণ তাদের মূল টিভি চ্যানেলে সম্প্রচার করা হবে না, বরং এবিসি নিউজ লাইভ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম এবং এবিসি নিউজ রেডিওতে প্রচার করা হবে।
এ বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তির বরাতে জানা গেছে, এনবিসি নিউজ ট্রাম্পের ভাষণ তাদের মূল টেলিভিশন চ্যানেলে নয়, বিনা মূল্যের স্ট্রিমিং সেবা এনবিসি নিউজ নাউ-তে সম্প্রচার করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
অন্যদিকে সিএনএন জানায়, তারা ভাষণটি পর্যবেক্ষণ করবে এবং এর লাইভ ফিড তাদের ওয়েবসাইট ও সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম সিএনএন অল অ্যাক্সেস-এ দেখানো হবে।
এবিসি ও এনবিসির স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের দর্শকসংখ্যা তাদের প্রচলিত টেলিভিশন চ্যানেলের তুলনায় অনেক কম। একইভাবে সিএনএনের ডিজিটাল সেবার দর্শকও তাদের নিয়মিত কেবল চ্যানেলের তুলনায় সীমিত।
আরও পড়ুন: ঢাকার বড় চ্যালেঞ্জ যানজট ও রাস্তায় হকারের অব্যবস্থাপনা: ডিএসসিসি প্রশাসক
ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি এমন কিছু গোয়েন্দা তথ্যের গোপনীয়তা প্রত্যাহার (ডিক্লাসিফাই) করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার পূর্ববর্তী মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তনে বেইজিংয়ের কোনো ভূমিকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ভাষণের আগে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের জানান, ট্রাম্প নির্বাচনী নিরাপত্তার পাশাপাশি ইরান পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এবং আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারেন। তাই জাতীয় স্বার্থে টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করা উচিত ছিল।
অবশেষে, ট্রাম্প ভাষণে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করে বলেন, ওই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এগিয়ে রয়েছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এরপর তিনি মূলত নির্বাচনী নিরাপত্তা ও ভোট জালিয়াতি সংক্রান্ত তার অভিযোগগুলোই তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: ব্রিকস দেশগুলোর জন্য ‘ওপেন-সোর্স এআই জোন’ গঠনের প্রস্তাব সি চিন পিংয়ের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন